স্বাধীনতা দিবস ঘিরে মুখোমুখি সংঘাতে কেন্দ্র-রাজ্য

কলকাতা: আর কোনও রাখঢাক নয়৷ স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে এবার কেন্দ্রের মোদী সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথেই হাঁটলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রীতিমতো নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি জেলার সর্বশিক্ষা মিশনের ডিপিও-দের (ডিস্ট্রিক প্রজেক্ট অফিসার) কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হল, যে ৭১তম স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান করারই প্রয়োজন নেই৷ এমনকি কোনও প্রতিষ্ঠান এবিষয়ে কোনও প্রস্তুতি নিয়ে থাকলে তাও অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে৷

স্কুল শিক্ষা বিভাগের এক পদস্থ কর্তার মতে, চিঠিতে ঘুরিয়ে পরিষ্কারভাবেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এবার ১৫ অগাস্ট স্কুলে আসারই দরকার নেই৷ ওই দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলে যে যার মতো করে নিখাদ ছুটি কাটাতেই পারেন৷ ওই কর্তার মতে, এজন্য নির্দেশিকা জারি না করলেও হত৷ বরং নির্দেশিকা জারি করে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন যে এবার তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথেই হাঁটতে চলেছেন৷

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের তরফে সল্ট লেকের বিকাশ ভবন থেকে ১১ অগাস্ট এই নির্দেশিকা জারি করেছেন সর্বশিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (Memo No. 133(21)/70/CM&AS)৷ কপি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে স্কুলশিক্ষা বিভাগের সচিবকে৷ গত ২৫ জুলাই ভারত সরকারের এমএইচআরডি বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি মণীশ গর্গ এক নির্দেশিকায় (D O no- 15-3/2017-sch:1/CDN) প্রতিটি রাজ্যকে জানিয়েছিলেন, এবার স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে জাঁকজমক অনুষ্ঠান করতে হবে৷ শুধু পতাকা তুলে দায় সারলেই হবে না৷ সুসজ্জিতভাবে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষা কর্মীদের প্রত্যেককে একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে৷ স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানও করতে হবে৷

- Advertisement -

এদিকে রাজ্যের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে স্কুল শিক্ষা বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই ধরনের কোনও অনুষ্ঠান পালন করার প্রয়োজনই নেই৷ মণীশ গর্গের ২৫ জুলাইয়ের নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করেই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে৷চলতি মাসের ১১ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার রাজ্যের তরফ থেকে ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। শনিবার ছুটি থাকায় সরকারিভাবে রাজ্যের তরফ থেকে কারো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সর্বশিক্ষা মিশন দফতর সূত্রে খবর, ছুটি থাকার কারণে সরকারি কোনও নির্দেশিকা আসেনি। সোমবারেও জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ছুটি রয়েছে। তাহলে রাজ্যের নির্দেশিকা কিভাবে কার্যকর করা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজ্যের সার্কুলার

স্বাধীনতা দিবসের দিন সব মাদ্রাসায় তুলতে হবে জাতীয় পতাকা, গাইতে হবে জাতীয় সঙ্গীত। এই মর্মে মাদ্রাসাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা পরিষদ। সব মাদ্রাসায় এই সংক্রান্ত সার্কুলার পাঠিয়েছে৷ বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে আট হাজার(৮০০০) মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬০টি রাজ্যের সাহায্যপ্রাপ্ত। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে৷

কেন্দ্রের পাঠানো চিঠি
কেন্দ্রের পাঠানো চিঠি

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নোট বাতিল থেকে জিএসটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মমতা-মোদীর সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছিল৷ এবার স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজ্যের নিজস্ব বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই৷ তবে মমতার এই সিদ্ধান্তের পর মোদী সরকার পাল্টা কি পদক্ষেপ করেন সেদিকেই লক্ষ্য রাখা হচ্ছে৷

Advertisement
-----