ব্রিস্টল: রোহিত শর্মার জোড়া মাইলস্টোন ছোঁয়ার দিনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের দখল নিল টিম ইন্ডিয়া৷ ম্যাঞ্চেস্টারে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচ ৮ উইকেটে জিতেছিল ভারত৷ কার্ডিফে দ্বিতীয় ম্যাচ ৫ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড৷ ব্রিস্টলের নির্নায়ক ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে যায় বিরাট কোহলিরা৷

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে৷ জবাবে ভারত ১৮.৪ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ২০১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়৷ দুরন্ত শতরান করেন রোহিত৷ আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে রোহিতের এটি তৃতীয় শতরান৷ ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসাবে আন্তর্জাতিক টি-২০’তে তিনটি সেঞ্চুরি করেন তিনি৷ এই নিরিখে হিটম্যান ছুঁয়ে ফেলেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরোকে৷

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারত প্রথম একাদশে একজোড়া রদবদল করে৷ ‘এ’ দল থেকে কোহলির সংসারে ঢুকে পড়া দীপক চাহার ইন্ডিয়া ক্যাপ হাতে পান৷ তাঁকে কুলদীপ যাদবের জায়গায় খেলানো হয়৷ ভুবনেশ্বর কুমারের পিঠে সামান্য চোট থাকায় তাঁকে বসিয়ে আয়ারল্যান্ড সফরে জাতীয় দলে আত্মপ্রকাশ করা সিদ্ধার্থ কৌলকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত৷

পিচে পেসারদের জন্য সাহায্য ছিল৷ তবে ব্যাটে বল আসায় রান তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল ব্যাটসম্যানদের সামনেও৷ নবাগত চাহার-সিদ্ধার্থের অনভিজ্ঞ পেস জুটি ইংল্যান্ডের আগ্রাসী দুই ওপেনারকে বেঁধে রাখতে না পারায় ব্রিটিশদের বড় রানের ভিতে বসিয়ে দেন বাটলার-জেসন রয় জুটি৷ তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা অ্যালেক্স হেলস ও মিডল অর্ডারে জনি বেয়ারস্টোর কার্য়করী অবদান রাখেন দলের ইনিংসে৷

কোহলি শুরুতেই বল তুলে দেন অভিষেককারী দীপক চাহারের হাতে৷ তিনটি বাউন্ডারিতে চাহারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বাগত জানান বাটলার৷ প্রথম ওভারে ১৩ রান খরচ করেন তিনি৷ ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে’তে বিনা উইকেটে ৭৩ রান তোলে ইংল্যান্ড৷

অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে বাটলারকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন সিদ্ধার্থ কউল৷ বাটলার ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন৷ দলগত ৯৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় ব্রিটিশরা৷

বাটলার ফেরার পর তাঁকে অনুসরণ করে সাজঘরের পথে হাঁটা লাগান জেসন রয়৷ ততক্ষণে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির গণ্ডি টপকে গিয়েছেন তিনি৷ ৩১ বলে ৬৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দীপক চাহারের প্রথম আন্তর্জাতিক শিকার হন তিনি৷ ধোনির হাতে ধরা দেওয়ার আগে জেসন ৪টি চার ও ৭টি ছক্কা মারেন৷

দলনায়ক মর্গ্যান মাত্র ৬ রান করে পান্ডিয়ার বলে ধোনির দস্তানায় ধরা পড়েন৷ একই ওভারে অ্যালেক্স হেলসও ধরা দেন ধোনির হাতে৷ হার্দিকের বলে আরও একটি ক্যাচ ধরেন ধোনি৷ ২টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৪ বলে ২৫ রান করে বেয়ারস্টোর উইকেট তুলে নেন হার্দিক-ধোনি জুটি৷

গোটা ইনিংসে ধোনি মোট পাঁচটি ক্যাচ ধরেন৷ আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে এটি একটি রেকর্ড৷ ধোনির আগে কোনও উইকেটকিপার একটি টি-২০ ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ ধরেননি৷

মাঝে ১৪ রান করে বেন স্টোকস পান্ডিয়ার বলে আউট হন৷ ডেভিড উইলিকে ১ রানে বোল্ড করেন উমেশ যাদব৷ জর্ডন ৩ রান করে রানআউট হন৷ প্লাঙ্কেট ৯ রান করে সিদ্ধার্থের দ্বিতীয় শিকার হন৷ ৪ রানে অপরাজিত থাকেন আদিল রশিদ৷

ভারতের হয়ে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নেন পান্ডিয়া৷ ২টি উইকেট নিয়েছেন সিদ্ধার্থ কউল৷ একটি করে উইকেট চাহার ও উমেশ যাদবের৷

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরুতেই শিখর ধাওয়ানের উইকেট হারিয়ে বসে৷ ৩ বলে ৫ রান করে উইলির বলে জ্যাক বলের হাতে ধরা পড়েন গব্বর৷ লোকেশ রাহুল ১০ বলে ১৯ রান করে জ্যাকের বলে উইকেট দিয়ে আসেন৷ ৫.২ ওভারে ৬২ রানে ২ উইকেট হারায় ভারত৷

রোহিতের সঙ্গে জুটিতে তৃতীয় উইকেটে ৮৯ রান যোগ করেন ভারত অধিনায়ক৷ শেষে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির দোরগোরায় জর্ডনের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বসেন বিরাট৷ ২৯ বলে ৪৩ রান করার পথে কোহলি দু’টি চার ও দু’টি ছক্কা মারেন৷

ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমোশন পেয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া৷ বল হাতে সফল পান্ডিয়া ক্রিজে ব্যাট করতে এসেই ঝড় তোলেন৷ ১৪ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি৷

রোহিত ৫৬ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থেকে যান৷ তিনি ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন৷ বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসাবে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে দু’হাজার রানের মাইলস্টোনও টপকে যান রোহিত৷ হার্দিক ব্যাটে-বলে সফল হলেও ম্যাচের সেরার পাশাপাশি সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতে নেন হিটম্যান৷

----
--