সাড়ে ১৯ দিনেই বছর শেষ! গ্রহের সন্ধান দিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী

আমেদাবাদ: ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সন্ধান দিলেন আরও এক নতুন গ্রহের। সৌরজগতের বাইরে মিলল সেই গ্রহের খোঁজ। নেতৃত্বে বাঙালি বিজ্ঞানী অভিজিত্‍ চক্রবর্তী। তিনি ও তাঁর টিমের গবেষকেরা পৃথিবীর থেকে ছ’গুন বড় ওই গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন।

পৃথিবী থেকে ৬০০ আলোকবর্ষ দূরের এক তারা বা নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে ওই গ্রহটি। সৌরজগতের বাইরে থাকা এই ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ আবিষ্কার করে মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে চলে এল ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র অধীনস্থ আমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ, এই প্রথম কোনও ভারতীয় সংস্থার হাত ধরে কোনও এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কৃত হল।

এর আগে আমেরিকা ও ইউরোপের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করতে পেরেছে। অর্থাৎ ভারতও ঢুকে পড়ল সেই ‘এলিট ক্লাব’-এ।

কেমন সেই গ্রহ, দেখে নিন একনজরে:

২৭টা পৃথিবীর সমান ভর এই গ্রহের।

গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে EPIC 211945201b বা K2-236b, এর ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের ছ’গুণ বেশি।

EPIC 211945201b বা K2-236b গ্রহটি সূর্যের মত এক নক্ষত্রের চারদিকে ঘোরে, এর ঘুরতে সময় লাগে ১৯.৫ দিন।

এই গ্রহ পৃথিবী থেকে ৬০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নক্ষত্রের কাছাকাছি হওয়ায় তাপমাত্রা এতটা বেশি। এই গ্রহের সঙ্গে এর নক্ষত্রের দূরত্ব পৃথিবী-সূর্যের দূরত্বের তুলনায় সাত গুণ বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে প্রাণের অস্তিত্ব তৈরি হয়নি।

রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে পিআরএল অ্যাডভানস, রেডিয়াল ভেলোসিটি আবু স্কাই রিসার্চের বিজ্ঞানীরা গুরুশিখর অবজারভেটরির ১.২ মিটারের টেলিস্কোপের সাহায্যেই এর সন্ধান পেয়েছেন।

নতুন যে গ্রহটি আবিষ্কৃত হয়েছে, তাকে সাব-স্যাটার্ন বা সুপার নেপচুন বলছেন বিজ্ঞানীরা। দেড় বছর ধরে পিরআরএলের বিজ্ঞানীরা এই এক্সোপ্ল্যানেটটির দিকে নজর রাখছিলেন। গ্রহটির মোট ভরের ৬০-৭০ শতাংশই লোহা। এ ছাড়াও রয়েছে বরফ ও সিলিকেটও।

----
-----