শুল্ক-যুদ্ধের মাঝেই আমেরিকা থেকে ১০০০ এয়ারক্রাফট কেনার প্রস্তাব ভারতের

নয়াদিল্লি: একদিকে বাণিজ্যের শুল্ক যুদ্ধ চলছে দুই দেশের মধ্যে। তার মধ্যে সমঝোতা আনতেই এবার আমেরিকা থেকে বিমান কিনতে চাইছে ভারত। যাত্রী বিমানের জন্য অন্তত ১০০০টি এয়ারক্রাফট কেনার কথা ভাবছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, আরও বেশি তেল ও গ্যাসও কেনা হবে আমেরিকা থেকে। গত সপ্তাহেই এব্যাপারে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর। আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ভারত ওই বিমান কিনবে বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে রবিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের অধিকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবে আমেরিকার একটি প্রতিনিধি দল। থাকবেন মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ মার্ক লিনসকট। শুল্ক বিষয়ক সমস্যা নিয়ে কথা হবে দুই দেশের।

ভারত হিসেব কষেছে, এয়ারক্রাফট কেনার জন্য ভারত বছরে ৫০০ কোটি ডলার খরচ করবে আর ৪০০ কোটি দিয়ে কিনবে তেল ও গ্যাস। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আমদানির হিসেব রয়েছে এর বাইরেও। উল্লেখ্য, ভারত আরও ১২টা নাভাল সারভিলিয়েন্স এয়ারক্রাফট P8i কিনতে চায় আমেরিকার কাছ থেকে। আমেরিকার বাইরে ভারতের কাছেই বর্তমানে সবথেকে বেশি সংখ্যায় এই এয়ারক্রাফট রয়েছে।
শীঘ্রই হাওয়াই দ্বীপে আমেরিকার ইন্দো-পেসিফিক কমান্ড পরিদর্শনে যাবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। সম্প্রতি ভারতকে সম্মান জানাতে এই কমান্ডের নাম পরিবর্তন করেছে আমেরিকা।

তবে শুল্ক-যুদ্ধ জারি আছে ট্রাম্প ও মোদী সরকারের মধ্যে। ট্রাম্প ইস্পাত অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক বসানোর পরই পাল্টা চাল দিতে কৃষিজ পণ্য, চিংড়িতে শুল্ক বসান মোদী৷ ৯ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য আমদানির উপর যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করে। এর ফলে ভারতের ১৯.৮৬ কোটি ডলার মূল্যের ইস্পাত ও ৪.২৪ কোটি ডলার মূল্যের অ্যালুমিনিয়াম পণ্য রফতানি ধাক্কা খাচ্ছে। তারই পাল্টা চাল হিসেবে এবার ভারত মার্কিন মুলুক থেকে আমদানি হওয়া সমমূল্যের ৩০টি পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই শুল্ক ৭.৫ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে, বাকিগুলির ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে অগস্ট মাস থেকে। পণ্যগুলিকে মধ্যে রয়েছে – দেশি ছোলা, কাবুলি ছোলা, ডাল, বাদাম, আপেল, চিংড়ি মাছ,ইত্যাদি। তাছাড়া, বোরিক অ্যাসিড, ইস্পাত ও লোহার পণ্য, প্রভৃতি পণ্যের আমদানি শুল্কও বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক বর্ধিত শুল্কের পণ্যগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করে।

Advertisement
----
-----