নয়াদিল্লি: চাপে রাখতে হবে পাকিস্তানকে। সে সামরিক ক্ষেত্র হোক বা কূটনীতির মঞ্চ। এটাই মূল লক্ষ্য ভারতের। সেই লক্ষ্য পূরণেই এবার ইরাবতী নদীর উপরে বাঁধ নির্মাণে অগ্রসর হল দিল্লি।

পশ্চিমের রাজ্য পঞ্জাবে অবস্থিত ইরাবতী নদী। এই নদীতে বাঁধ দিলে খুব স্বাভাবিকভাবেই চাপে প্রবে পাকিস্তান। কারণ ওই নদীর জলের উপরে অনেকটাই নির্ভর করে পাকিস্তানের বিস্তীর্ন এলাকার কৃষিকাজ। ভারত বাঁধ তৈরি করলে প্রবল প্রতিকুলতার মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের কৃষি।

আরও পড়ুন- নীলছবি-ধর্ষণের ভিডিও সরাতে কেন্দ্রের পাশে গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ

ইরাবতী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে। পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে সমতল ভূমি পার করে আরব সাগরে মিশেছে। এই যাত্রাপথের মাঝে পড়েছে আন্তর্জাতিক সীমানা। আর এই নদীর অধিকাংশটিই পড়েছে পাকিস্তানের মাটিতে। ভারতের পঞ্জাবের সমতলভূমির উপর দিয়েও গিয়েছে ইরাবতী।

চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই ইরাবতী নদীর উপরে বাঁধ নির্মাণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ২০২২ সালের মধযে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ৪৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছে। ২০০১ সালে এই প্রকল্পের কথা ভেবেছিল যোজনা কমিশন। সেই সময় এই প্রকপের জন্য ২২৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। যদিও আর্থিক এবং রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্পের কাজ এগোয়নি।

আরও পড়ুন- মন্ত্রীদের বেতন এবং ভ্রমণ খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিল পার্লামেন্ট

এই বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেলে পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীর কৃষিকাজে বিশেষ সহায়তা পাবে। পঞ্জাবের পাঁচ হাজার হেক্টর কৃষিজমি এবং জম্মু-কাশ্মীরের ৩২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি চলে আসবে সেচের আওতায়। একই সঙ্গে ওই বাঁধের উপরে নির্মাণ করা হবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। যার ক্ষমতা ২০৬ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন- গোপনে রাখাইন থেকে পালানোর পথে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা

এই বাঁধ নির্মাণ করলে ক্ষতির মুখে পড়বে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর কারণে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে ভারতকে। কারণ নদী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়ে রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে একেবারেই ভাবিত নয় কেন্দ্র। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ১৯৬০ সালের ভারত পাকিস্তান সিন্ধু জলচুক্তির নির্দেশিকা মেনেই এই বাঁধ বানাচ্ছে ভারত। ওই চুক্তি অনুসারে, ভারত ইরাবতী, বিপাশা এবং শতদ্রু নদের জল নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে।

--
----
--