নয়াদিল্লি: একদিকে পাকিস্তানের চাপ, অন্যদিকে চিনের। আর তার মধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষার জন্য এক বড়সড় ধাক্কা। সমীক্ষা বলছে, ক্রমশ সেনাবাহিনী ছেড়ে বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হচ্ছে জওয়ানরা। গত দু’বছরে এই সংখ্যাটা বেড়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। অনেকেই স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। রিপোর্ট বলছে গত তিন বছরে অন্তত ২৭,৮৬২ সেনা জওয়ান চাকরি ছেড়েছেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮-র ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৭,৮৬২ জন জওয়ান চাকরি ছেড়েছেন। লোকসভায় এমনই তথ্য পেশ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ২০১৭ তে ১৪,৫৮৭ জন জওয়ান পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে সেন্ট্রাল প্যারামিলিটারি ফোর্সের গ্যাজেটেড অফিসারও রয়েছেন। রয়েছেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি, সিআইএসএফ ও অসম রাইফেলসের অফিসারেরা। তাঁরা নিজেদের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতের এই পাঁচ গোপন ঘাঁটির কথা জানেন?

কেবলমাত্র ৩,৪২২ জওয়ান পদত্যাগ করেছেন ২০১৫ তে। ৮,৯১২ জন ২০১৬ তে। সিআরপিএফের মধ্যে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১,১৫৬ জন কনস্টেবল ও হেড কনস্টেবলও পদত্যাগ করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই এই রিপোর্ট ভারতের মত দেশের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় সেনা শক্তি বাড়াতে সবরকমের চেষ্টা চলছে। আনা হচ্ছে প্রচুর অস্ত্র, ট্যাংক, এয়ারক্রাফট। বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি হিসেবে পরিচত ভারতে তাই জওয়ানের সংখ্যা কমে যাওয়াটা একটা ধাক্কার ব্যাপার। এদিকে, সেনাবাহিনীতে আরও অল্পবয়সী কম্যান্ডার প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে এই আবেদন জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : সেনাবাহিনীর হাতে চলে এল বিশ্বের প্রথম বিধ্বংসী লেসার গান

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এবং চিনের মতো ভারতেও কম্যান্ডার পদে তরতাজা সেনানী প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীতে কম্যান্ডার পদের গড় বয়স ৪১ বছর। সেখানে পাকিস্তানে ৩৭ বছর এবং চিনে ৩২ বছরে কম্যান্ডার পদে প্রোমোশোন দেওয়া হয়। ফলে, তরুন তরতাজা ছেলের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা।

----
--