নয়াদিল্লি: ১৩ লক্ষ জওয়ান নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী৷ প্রয়োজন ৮ লক্ষ রাইফেলের৷ যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৫০ কোটি টাকা৷ যা হাতে এলে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে ভারতীয় সেনা বাহিনী৷ আপোষ করতে হল সেখানেই৷ টাকার যোগান নেই৷ অর্থের যোগানে টান পড়েছে৷ ফলে ৮ লক্ষ থেকে কমিয়ে আড়াই লক্ষ রাইফেল আমদানির অনুমোদন পেয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী৷ অর্থাৎ মোট চাহিদার এক তৃতীয়াংশ৷ বাজেট কম, তাই আমদানিতে কাটছাট করতে বাধ্য হয়েছে সেনা বলে গোপন সূত্রের খবর৷

সাড়ে চার লক্ষ ইনফ্যান্ট্ররি ট্রুপারস, যাদের মধ্যে অর্ধেক জওয়ান যান যুদ্ধক্ষেত্রে৷ বাকিরা সহায়তা করার জন্য থাকেন৷ তবে প্রত্যেকরই প্রয়োজন অস্ত্র৷ তাই এই পরিমাণ আমদানি যে নিতান্তই কম, তা বুঝতে পারছেন সমর বিশেষজ্ঞরা৷

যদিও, মে মাসে লোকসভায় নানা ধরনের রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর নিজেদের মজুত অস্ত্র সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেছিলেন হাতে থাকা অস্ত্রে লড়াই করতেই ট্রেনিং দেওয়া হবে৷ সম্প্রতি লোকসভায় দেওয়া এক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছিল যে, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ নাকি প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম।

সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে সেনাবাহিনীর আর্থিক সমস্যার ফলে আধুনিকীকরণ এবং নতুন অস্ত্রশস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে বাধার কথা বলা হলেও, সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত জানান, অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়া জারি আছে। হাতে যে অস্ত্র আছে, সেগুলি রাতারাতি অকেজো হয়ে যাচ্ছে না। যে অস্ত্র পাওয়া যাবে, সেটা নিয়েই লড়াই করতে তৈরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। সেভাবেই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলে লেফট্যানেন্ট জেনারেল শরত চাঁদ বলেন, অপর্যাপ্ত টাকার কারণে থমকে যেতে পারে একাধিক ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্ট। তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আধুনিকীকরণের জন্য মোট ২১,৩৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১২৫টা চলতি প্রকল্প, জরুরি প্রয়োজনে আনা জিনিসপত্র ও অন্যান্য চাহিদা পূরণে মোট ২৯,০৩৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিরক্ষা বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।’ এবছরের বাজেটে সেনাবাহিনী আশাহত বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

----
--