নয়াদিল্লি: ভারতীয় রাজনীতিবিদেরা মনে প্রাণে চায় যে পড়শি দেশ থেকে মুসলিমরা ভারতে প্রবেশ করুক। এমনই মনে করেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

মুসলিমদের বড় ভোট ব্যাংক বলে মনে করে ভারতের রাজনীতির কারবারীরা। এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। সেই বিষয়টিকেই আরও একবার খুঁচিয়ে তুলেছেন লজ্জার লেখিকা তসলিমা। ভোট ব্যাংকের স্বার্থে রাজনীতিবিদরা অনুপ্রবেশেও মদত দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তসলিমা।

এই বিষয়ে বুধবার রাতের দিকে ট্যুইট করেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, “ভারতে যথেষ্ট মুসলিম রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আরও মুসলিম ভারতের কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভারতের রাজনীতিবিদদের মুসলিমদের খুব প্রয়োজন।”

ভারতের উত্তর-পূবের রাজ্য অসমে নাগরিকপঞ্জির তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমস্যা দেখা দিয়েছে দ্বিতীয় খসড়াতেও প্রায় ৪০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীর নাম না থাকার কারণে। যা নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম না থাকায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও একই অভিযোগ করেছে।

আরও পড়ুন- NRC: মমতার কাছে আশ্রয় চাইলেন ‘বাঙালি’ তসলিমা

একসময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে লোকসভায় সরব হয়েছিলেন সাংসদ মমতা। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, “সীমান্ত পার করে আসা অনুপ্রবেশকারীরাই সিপিএম-র ভোট ব্যাংক।” এখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সেই একই অভিযোগ করছে বিজেপি।

মুসলিম বা ইসলামের সঙ্গে লেখিকা তসলিমার বিরোধ দীর্ঘদিনের। মূলত সেই কারণেই তাঁকে দেশ ছাড়া হতে হয়েছিল। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলে ইসলামি মৌলবাদীরা তাঁর ফাঁসির দাবী জানাতে শুরু করে। তিন লাখ মৌলবাদী একটি জমায়েতে তাঁকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল রূপে অভিহিত করে।

তারপরে দেশ জুড়ে তাঁর শাস্তির দাবীতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। একই সঙ্গে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতার এড়াতে পরবর্তী দুই মাসে লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

----
--