ভারতীয় বিজ্ঞানীর হাত ধরে আগামী বছরেই আসছে ডেঙ্গুর ওষুধ

নয়াদিল্লি: অবশেষে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাত ধরেই হতে চলেছে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি। আবিষ্কার হল ডেঙ্গুর নয়া পথ্য৷ আয়ুর্বেদকে হাতিয়ার করে এই আবিষ্কার বলে জানা যাচ্ছে৷ ভারতীয় বিজ্ঞানীদের নতুন এই উদ্ভাবনটি সাধারণ মানুষ হাতে পেতে চলেছেন আগামী বছর৷

প্রফেসর বৈদ্য কে এস ধিমান(সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্সেস্,ডিরেক্টর জেনারেল) এক বক্তব্যে বলেন, ‘ওষুধটিতে থাকছে সাতটি উপকরণ৷ যেগুলো বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে৷’ তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ডেঙ্গু একটি বড় সমস্যা এবং সম্প্রতি এটি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে৷ আয়ুর্বেদ এবং সিদ্ধ সাহিত্যে ডেঙ্গুর সরাসরি কোনও উল্লেখ নেই৷ ‘আমরা ২০১৫ সাল থেকে এই ওষুধ তৈরির কাজ শুরু করেছি এবং পাইলট স্টাডিজের এই প্রক্রিয়াটি মেডিটেশন হাসপাতাল, গুরগাঁওতে হয়। বেলগম ও কলরার মেডিকেল কলেজটি ডেঙ্গু চিকিৎসায় এই ওষুধ কতটা নিরাপদ ও তার কার্যক্ষমতা কতটা, তা প্রমাণ করেছে৷’ ওষুধটি গত বছর জুনে তৈরি করা হয়েছে৷

পাইলট স্টাডি চলাকালীন ওই ওষুধ ৯০ জন রোগীকে দেওয়া হয় তরল অবস্থায়৷ ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলাকালীন ওষুধটি টেবলেটের আকারে দেওয়া হয়৷

- Advertisement -

ডেঙ্গুর জন্য প্রধানত এডিস ইজিপ্টি মশা দায়ী৷ এরা সাধারণত পরিষ্কার জলে বেড়ে ওঠে৷ তাই, বাড়ির আশে পাশে জল জমতে দেওয়া উচিৎ নয়৷ ডেঙ্গুর উপসর্গ হিসাবে দেখা যেতে পারে মাথাব্যাথা, জয়েন্ট পেন, হাই-ফিভার, বমি বমি ভাব, স্কিনে রাশ ইত্যাদি৷ এখনও পর্যন্ত কোনও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ আবিষ্কার হয়নি ডেঙ্গির জন্য৷ এই সময় পর্যাপ্ত পরিমান জল এবং বিশ্রাম নেওয়া জরুরি৷

WHO এর হিসেব অনুযায়ী, ডেঙ্গু বর্তমানে সবথেকে দ্রুততম মশাবাহিত রোগ৷ প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ তথ্য অনুসারে, ভারতে ২০১৭ সালে ১৫,৭২২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৫০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন৷ ন্যাশনাল ভেক্টর বর্নী ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনভিবিডিসিপি) -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে, ১২৯১৬৬ টি ডেঙ্গুর কেস নথিভুক্ত হয়েছে এবং ২৪৫ জন মারা গিয়েছেন৷

Advertisement
-----