মুম্বই: স্বাধীনতা দিবসে প্রকিতিপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ভারতের প্রথম পেঙ্গুইন ছানা জন্ম নিল মুম্বাইয়ের এক চিড়িয়াখানায়। ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এদিন ঘোষনা করে ১৫ই আগস্ট রাত আটটা নাগাদ পেঙ্গুইন ছানাটি জন্মগ্রহণ করে।

চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর ইন চার্জ সঞ্জয় ত্রিপাঠী জানান, জন্মের পর থেকেই বেশ চনমনে রয়েছে ছানাটি। মা পেঙ্গুইন ছানাটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। বীর জীজাবাই ভন্সাল উদ্যানে সদ্যজাত পেঙ্গুইনের বাবা-মা মিস্টার মোল্ট ও ফ্লিপারকে নিয়ে উত্তেজনা ছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। গত জুলাই মাসে ফ্লিপার প্রসব করে।

Advertisement

চিড়িয়াখানার সবচেয়ে পুরাতন মহিলা সদস্য ফ্লিপার। উল্টোদিকে মিস্টার মোল্ট নবীনতম সদস্য। এই উদ্যানের পেঙ্গুইন পাড়ার সবচেয়ে চর্চিত নাম মিস্টার মোল্ট ও ফ্লিপার। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা মানুষদের কাছেও সেরা আকর্ষণ এরা।

প্রায় ৪০ দিন ধরে প্রবল যত্নের সঙ্গে ডিমটির পরিচর্যা করেন চিড়িয়াখানার কর্মীরা। তাদের মধ্যেও উৎসাহের অন্ত ছিল না। পেঙ্গুইনদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ শীতল স্থানে ডিমটিকে রাখা হয়। অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা দিবসের রাতে ডিমের খোলস থেকে মুক্ত হয় সে।

প্রায় ১,৭০০ স্কোয়ার ফিট জায়গা জুড়ে তৈরি এই জায়গায় সবসময় ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার সমতা রাখা হয়। জলের পরিমাণও নিয়মিত দেখা হয়। সেখানে পেঙ্গুইনদের মাছ খেতে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার চিড়িয়াখানা থেকে আটটি পেঙ্গুইনকে এদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের নামকরণও করা হয়। ডোরি, ডোনাল্ড, ডাইসি, পোপেই, অলিভ, বাবেল, ফ্লিপার এবং মিস্টার মোল্ট। এই আটটি পেঙ্গুইন মুম্বাই চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ। যদিও ডোরি মারা যায়। গত ২৩শে অক্টোবর জনসমক্ষে আসার আগেই ব্যক্টেরিয়াঘটিত সংক্রমণের ফলে পেঙ্গুইন পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমে যায়।তবে ভারতের মাটিতে এই প্রথম কোন পেঙ্গুইন জন্ম নিল। সদ্যজাতকে নিয়ে উৎসাহের অভাব নেই চিড়িয়াখানাজুড়ে। পাশাপাশি ভারতের জলবায়ু যে ওরা মানিয়ে নিতে পারছে তা দেখে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

----
--