পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’ঘণ্টার দূরত্বে নিউক্লিয়ার প্লান্ট তৈরি করছে বাংলাদেশ

ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখার কাছ ঘেঁষেই চলছে কাজ। বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করছে বাংলাদেশ। কড়া নিরাপত্তা। তৎপরতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে সেই কাজ। তৈরি হচ্ছে হাইটেক নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট।

পশ্চিমবঙ্গের সীমানা থেকে ওই প্রজেক্টের সাইটের দূরত্ব ঘণ্টা দুয়েকের। বাংলাদেশের রূপুরে হচ্ছে সেই কাজ। যদিও ওই প্লান্টে উৎপন্ন হওয়া বিদ্যুতের কোনও অংস আসবে না ভারতে। তবুও বাংলাদেশের এই প্রজেক্ট নিয়ে উৎসাহী নয়াদিল্লি।

বহু বছর ধরে ভারত বিশ্বের পরমাণু সংক্রান্ত বাণিজ্যে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু, এনএসজি-র অংশ না হওয়ায় সেব্যাপারে বিশেষ কিছু করতে পারছে না। তবে এবার বাংলাদেশ-রাশিয়া ও ভারতের ত্রিদেশীয় চুক্তি হয়েছে। যার মাধ্যমে ভারতের এই বাণিজ্যের পথ খুলে গিয়েছে।

- Advertisement -

ঢাকা এই প্রজেক্টের জন্য রাশিয়া থেকে মোট ১২০০ মেগাওয়াট অ্যাটমিক রিঅ্যাকটর কিনেছে। ভারতের তামিলনাড়ুর কুড়ানকুলামে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাই ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। এই প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ারদের তাই যৌথভাবে ট্রেনিং দিচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভারত থেকে এই প্রজেক্টের জন্য জিনিসপত্র সাপ্লাই দেওয়া হবে। ২০২৩-এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম অ্যাটমিক রিঅ্যাকটর তৈরি করার লক্ষ্য স্থির করেছে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এম আনোয়ার হুসেন জানান, ‘বাংলাদেশ, রাশিয়া ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এর আগেও ভারতের সঙ্গে এই সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল। ভারত কুড়ানকুলামে VVER প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করছে। ভারতের এই সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু নতুন পরমাণু শক্তিধর দেশ, তাই ভারত তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করবে।’ তবে রূপুর থেকে কী ভারতে বিদ্যুৎ সাপ্লাই করা হবে? এখনও সেটা ঠিক হয়নি বলেই জানালেন তিনি।

মুম্বইয়ের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের কর্ণধার গৌতম বিশ্বাস বলেন, ভারত, বাংলাদেশ ও রাশিয়া সহযোগিতার এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে এই চুক্তির মাধ্যমে।

Advertisement
---