মিশরেও ছিল বৌদ্ধধর্ম! গবেষণা করছেন ভারতের কনিষ্ঠতম প্রত্নতত্ত্ববিদ

আপনি কখনও বেড়াতে গিয়ে সেই জায়গার ছবি এঁকেছেন? সম্ভবত বেশীরভাগ মানুষেরই উত্তর হবে ছবি আঁকবো কেন? সব জায়গায় ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছি। আমাদের এই ফার্স্ট লাইফে চোখের লেন্স আর কতটুকুই বা ধরে রাখতে পারে? সেখানে তো ক্যামেরাই ভরসা।কিন্তু আপনি হয়ত জানেননা ভারতেরই এক সন্তান এই কাজে একেবারে সিদ্ধহস্ত।

মাত্র চার বছর বয়সে বাবা-মা’র সঙ্গে কাঠমান্ডু ঘুরতে গিয়েছিল সে। সারাদিন ওই শহরের নানা ঐতিহাসিক মন্দির ঘুরে, খাওয়াদাওয়ার জন্য এক রেস্তোরাঁয় পৌঁছে মা-বাবা যখন খাবার অর্ডারে ব্যস্ত, ছেলেটি তখন হাতের কাছে অন্য কিছু না পেয়ে টিস্যু পেপার আর পেন নিয়ে লেগে পড়ে। হঠাত যখন মা-বাবার চোখ যায় ছেলের দিকে, তারা যেন চমকে ওঠেন। একরত্তি ছেলেটা সারাদিনে যা দেখেছে এঁকে ফেলেছে সব। ছেলের আর মুখ ফুটে কিছু বলার দরকার হয়নি। মা-বাবা বুঝে গিয়েছিলেন ছেলে কি চায়!

বিশ্বাস করতে অসুবিধে হলেও এটাই সত্যি। অরশ আলী। ১৭বছর বয়সী এই তরুণের কাজে আপনি চমকে যেতে বাধ্য। ছোটবেলাতেই মা-বাবা বুঝেছিলেন ইতিহাস আর সংস্কৃতিতে কতটা আগ্রহ তার।
বর্তমানে ভারতের কনিষ্ঠতম প্রত্নতত্ববিদ অরশ আলী। হরপ্পা ও মিশরীয় সভ্যতার খননকাজ সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে পাঁচটি অভিক্ষেপণের কাজ। এই মুহূর্তে অন্য আরও দশটি কাজে রীতিমত ব্যস্ত এই টিনেজার।

- Advertisement -

বর্তমানে, সম্রাট আশোকের আমলে মিশরীয় সভ্যতায় বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত অরশ। মিশরে অশোকের ‘ধম্ম’এর যোগসূত্রও খুঁজে পেয়েছেন। বহু প্রতীক্ষিত এই গবেষণার ফলাফল সামনে আসবে চলতি মাসের নভেম্বর মাসেই। অরশ জানান, ‘ময়ুরান আমলে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। তিনি সমগ্র মহাদেশে এই ধর্ম ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। পূর্বাঞ্চলের প্রায় সমগ্র অংশেই এই কাজে তিনি সফল হয়েছিলেন।কিন্তু আমরা জানি না অশোকের প্রভাবে পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু অঞ্চলেও বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটেছিল’। সাঁচিতে প্রাপ্ত একটি প্রমানের ভিত্তিতে অরশ পশ্চিমাঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের প্রসারের প্রমান পান। মিশরীয়দের মধ্যে কিভাবে মমি তৈরির প্রক্রিয়া এল তাও জানার চেষ্টা করেন অরশ। মমি তৈরির দেবতা ‘অনুবিস’এর সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি মিশরীয় সংকেত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর।

বিস্ময় বালকের কীর্তি এখানেই শেষ নয়। আরবি, ল্যাটিন এর পাশাপাশি এই বয়সেই রপ্ত করেছে দশটি ভিন্ন ভাষা। এখনও পর্যন্ত ১৮ টি পাণ্ডুলিপি পড়তে সক্ষম হয়েছে সে। বেশীরভাগ সময় এই নতুনের সন্ধানে একাই ঘোরে অরশ। তবে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় ।

প্রত্নতত্ববিদ্যাই কেন? প্রশ্ন করলে অরশের উত্তর, ‘জীববিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল এবং ইতিহাস এর সংমিশ্রণ প্রত্নতত্ববিদ্যা। আর এই প্রতিটা বিষয়ই আমার খুব প্রিয়’। আর এই গবেষণার মাধ্যমেই তিনি দেশকে নতুন কিছু উপহার দিতে চান।

অরশ আরও জানান, ‘ছোটবেলায় মা-বাবা বই কিনে দিতেন। আমি তখন পড়তে পারতাম না। তবে বইয়ের ছবি দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। যেদিন থেকে আমি পড়তে শিখলাম…আমি পড়া থামাইনি’।

এই অল্প বয়সে সাফল্যের শিখর ছোঁয়া অরশের তার বয়সীদের প্রতি বার্তা,’ প্রচুর পড়াশুনো করো। ইতিহাস অতীতের স্বাদ বহন করে এবং তোমাকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে। পড়াশুনো একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়’।

তবে সব কিছুর জন্যই অরশ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার মা-বাবাকে। সবমিলিয়ে অরশ যে শুধু ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে চলেছেন তাই নয় বরং তার হাত ধরে ভবিষ্যতে কোনো বিপ্লব অপেক্ষা করছে হয়তো।

Advertisement ---
-----