স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: ‘অনুপ্রবেশকারীদের সযত্নে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কোনও মতেই তাদের ভারতে রাখা হবে না।’ সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার নদিয়া জেলার চাকদহে ছিল বিজেপির সভা। হিংনাড়া হাই স্কুলের মাঠে আয়োজিত সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন জয়। অসমের নাগরিক পঞ্জির তালিকা প্রকাশের পর থেকে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ওই তালিকায় ৪০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীর নাম নেই। এর পিছনে অসম রাজ্য এবং কেন্দ্রে পরিচালিত বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

অসম সরকারের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগেও সরব হয়েছেন তিনি।যদিও বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “নাগরিক পঞ্জির পালটা বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল।” নাগরিক পঞ্জির তালিকায় কেবলমাত্র মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলেও আগে দাবি করেছিলেন জয়।

এদিন চাকদহের জনসভায় তিনি বলেন, “দেশভাগের সময়ে অনেক সংখ্যালঘু মানুষ ভারতকে ভালোবেসে এদেশেই থেকে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে তারাও সকল ভারতবাসীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন। সেই সকল মানুষদের নাগরিক পঞ্জি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। সে যেই ধর্মেরই হোক না কেন। আমি নিজে সকলকে আশ্বস্ত করছি।”
একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জয়। তাঁর কথায়, “যারা লুকিয়ে, চোরা পথে সিপিএম বা তৃণমূলের সাহায্যে এদেশে এসেছে। এসে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।” যাদের আধার কার্ড বা পাসপোর্ট নেই। শুধু ভোটার কার্ড আছে, সেই সকল ব্যক্তিরাও বাতিলের তালিকাতেও থাকবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জয়। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে আমরা সযত্নে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেব। এখানে আর রাখা হবে না।”অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ভারতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জয়। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের যুবসমাজ। তাঁর কথায়, “বাইরে থেকে এসে এদেশের যুবক-যুবতীদের চাকরির বাজার নষ্ট করছে অনুপ্রবেশকারীরা। দেশীয় ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও সম্মুখীন হচ্ছ নানা প্রতিকূলতার।” সমস্যার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেছেন, “যে ঘরে ১০ জনের থাকার কথা সেখানে ২৫ জন ঢুকে পড়লে সেই ঘরের বাতাস তো বিষাক্ত হবেই।”
এদিন চাকদহের হিংনাড়া হাই স্কুলের মাঠের সভায় জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও হাজির ছিলেন মুকুল রায়।

জয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায় সম্প্রতি বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন। জাতীয় স্তরের নেতা হওয়ার পরে এটিই ছিল এই দুই বঙ্গ রাজনীতিবিদের প্রথম সভা। এছড়াও এদিনের সভায় হাজির ছিলেন বংগ বিজপির নেতা শমীক ভট্টাচার্য। সভায় যাওয়ার আগে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় শমীকবাবুকে। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করারও অভিযোগ উঠেছে।

----
--