‘ওরা এসে গিয়েছে’, হামলা রুখতে জঙ্গলমহলে আগাম সতর্কতার কৌশল

স্টাফ রিপোর্টার,পুরুলিয়া: ফি-বারই তারা ঝাড়খণ্ড থেকে দল বেঁধে এসে আক্রমণ চালিয়ে যায়৷ পায়ে দলিয়ে, মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করার পাশাপাশি তাদের আক্রমণে নিরীহ গ্রামবাসীর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকে৷

কিন্তু তাদের জেলে ভরে, এমন সাধ্যি কার! তেমন জেলখানায় যে গড়ে ওঠেনি! অগত্যা, দলমার দামালদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে উত্তরবঙ্গের দেখানো ‘সাপও না মরে, লাঠিও না ভাঙে’- কৌশলকেই হাতিয়ার করতে চলেছে পুরুলিয়া জেলা বনদফতর৷

আরও পড়ুন: শুভেন্দু-কাকলির বিমানে বোমাতঙ্ক

- Advertisement -

ইতিমধ্যেই অবশ্য উত্তরবঙ্গের দেখানো পথে হেঁটে সাফল্য পেয়েছে বাঁকুড়া৷ এবার এলাকার বনাঞ্চলে বুনো হাতির উপদ্রব রুখতে গণ এসএমএসের সাহায্য নিতে চলেছেন পুরুলিয়ার বনাধিকারিকরা৷

‘ওরা এসে গিয়েছে’- গণ এসএমএসের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করবে বনদফতর। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে৷ কেন? বন দফতর সূত্রের খবর: ঝালদা, বাঘমুন্ডি, অযোধ্যা, মাঠা, কোটশিলা, আড়শা- পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে হাতির হামলায় ক্ষয়ক্ষতি প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, দলমা থেকে আসা দলের পাশাপাশি এলাকার জঙ্গলে বছরভরে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে একাধিক ‘রেসিডেন্সিয়াল হাতি৷

আরও পড়ুন: মোদীর বিরুদ্ধে মমতার ফেডারেল ফ্রন্ট কতটা বাস্তবায়িত হবে

এক বনাধিকারিকের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘হাতি যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি করে থাকে, সঠিক তথ্য প্রমাণের অভাবে ততখানি ক্ষতিপূরণ বহু ক্ষেত্রেই দেওয়া সম্ভব হয় না গ্রামবাসীদের৷ ফলে দিনকে দিন বন দফতরের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে৷ অন্যদিকে হাতির হানায় ফসলের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে জনরোষের মুখে পড়ছে বন্য প্রাণী৷ এমনকি অনেকক্ষেত্রে হাতির হানার জেরে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের জেরে বহুক্ষেত্রে আইন–শৃঙ্খলারও অবনতি হয়ে থাকে৷ তাই সব সমস্যার সমাধানে এহেন উদ্যোগ৷’’

পুরুলিয়ার ডিএফও রামপ্রসাদ বদানা বলেন, “বুনো হাতির আক্রমণ থেকে গ্রামবাসীদের সতর্ক করতে আমরা দ্রুত গণ এসএমএসের ব্যবস্থা কার্য্যকর করছি। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজ চলছে।” বনদফতর সূত্রে খবর: নাম নথিভুক্তকরণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, ঠিকানা খোঁজ নিয়ে তবেই তার নাম গণ এসএমএসের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। কেন? বন দফতর সূত্রের খবর: গ্রামবাসীদের আড়ালে চোরাশিকারীরাও ঢুকে পড়তে পারে ওই গণ এসএমএসের তালিকায়৷ তাই নাম নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: ফেসবুকে আলাপ জমিয়ে ডাকাতি, ধৃত ৩

বনদফতরের তরফে, গণ এসএমএস ব্যবস্থা চালুর জন্য একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ কোনও বনাঞ্চলে বুনো হাতির খবর বনদফতরে এলে, তারা তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তৎক্ষনাৎ ওই এজেন্সিকে জানিয়ে দেবে। সঙ্গে সঙ্গে এজেন্সি নির্দিষ্ট এলাকায় নাম নথিভুক্ত হওয়া মোবাইলে গ্রুপ এসএমএসের মাধ্যমে তা দ্রুত জানিয়ে দেবে৷

বনদফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রেঞ্জের একাধিক বিটকে বিভিন্ন নম্বরে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। যে এলাকায় বুনো হাতি ঢুকছে সেই বনাঞ্চল বা বিটের সংশ্লিষ্ট নম্বর ওই এজেন্সিকে জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বভাবতই, বনদফতরের পুরুলিয়া বিভাগের বিভিন্ন অফিসের সামনে নাম নথিভুক্তকরণের জন্য গ্রামবাসীদের লম্বা লাইন৷ ‘ওরা এসে গেছে!’- আগাম জানতে হবে যে৷ এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘এটা একটা ভালো উদ্যোগ৷ আগাম জানতে পারলে আমরা কিছুটা সতর্ক হতে পারব৷ তাতে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কমবে৷’’

আরও পড়ুন: অবসর নিচ্ছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর কান্ডারি

Advertisement ---
---
-----