দেবযানী সরকার, কলকাতা: ঘাসফুল না পদ্মফুল? এ রাজ্যে দল কার হাত ধরবে তা নিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত প্রদেশ কংগ্রেসের একাধিক নেতা থেকে নীচুস্তরের কর্মী৷ লোকসভার লড়াইয়ে নামার আগে সেই ধোঁয়াশা কাটাতে দলের অন্দরে চলছে চিঠি-পাল্টা চিঠির লড়াই৷বাড়ছে দলীয় কোন্দল৷

আরও পড়ুন- বাড়ি বাড়ি অস্ত্র ঢোকাচ্ছে তৃণমূল: বিমান বসু

Advertisement

জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি কংগ্রেসের প্রধান শত্রু৷ আর বাংলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও তাঁর টিমের কাছে প্রধান শত্রু তৃণমূল কংগ্রেস৷ অথচ নিজেদের প্রয়োজনেই এই দুই রাজনৈতিক শত্রুর সঙ্গেই বন্ধুত্ব পাতিয়েছে বাংলার কংগ্রেস নেতৃ্ত্ব৷

আরও পড়ুন- ও বিজেপি করে, গাঁজার কেস দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে দে: অনুব্রত

এই ঘটনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নজর কেড়েছে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ৷প্রদেশ নেতৃ্ত্বের লাইনের বাইরে গিয়ে মালদহের সাংসদ তথা জেলা সভাপতি মৌসম নূর নিজের জেলায় তৃণমূলের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে একাধিক পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করেছেন৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে এর বিরোধীতা করেননি ঠিকই কিন্ত কংগ্রেস সূত্রের খবর, তাঁর ঘনিষ্টরা পশ্চিমবঙ্গের এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়ে মৌসমের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷

যেমন প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতা অনুপম ঘোষ চিঠিতে লিখেছেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলের হাতে একাধিক কংগ্রেস কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন৷তারপরও পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করতে সেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেই সমর্থন জানালেন মালদহের সাংসদ৷ এই ঘটনায় আমরা কংগ্রেস কর্মীরা রীতিমতো বিভ্রান্ত৷ আমরা বুঝতে পারছি না আমাদের কী তৃণমূলের বিরোধীতা করা উচিত নাকি বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের পাশে থাকা উচিত?” তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরির যাওয়ার বিষয়টিও সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন- অনুব্রতর ‘অ্যারেস্ট’ হুমকি নিয়ে মুখ খুললেন সঙ্গীতা

এরপরই অধীর চৌধুরীকে নিশানা করে দলের একাংশ পাল্টা চিঠি দিয়েছেন গৌরব গগৈ ও রাহুল গান্ধীকে৷ প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্য চিঠিতে লিখেছেন, “প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নিজের জেলা মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেওয়া গ্রামপঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে কংগ্রেস যে বিজেপিকে সমর্থন করেছে তাতে আমরা দিশেহারা৷ বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক আঁতাত করার আগে প্রদেশ সভাপতি কি আপনাদের অনুমোদন পেয়েছে? যদি অনুমোদন পেয়ে থাকেন তাহলে সারা দেশে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের যে মরণপণ ডাক রাহুল গান্ধী দিয়েছেন, তা কি প্রশ্নের সামনে পড়ে যাবে না?” নির্বাচনের দোরগোড়ায় মুর্শিদাবাদের ঘটনায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, এআইসিসি-র কাছে তা দ্রুত নিরসনের দাবি করেছেন তিনি৷

বিজেপি কিংবা তৃণমূল-কারোর সঙ্গেই বন্ধুত্ব মানতে পারছেন না বহু নীচুতলার কর্মী৷ একরাশ হতাশা নিয়ে কংগ্রেসের এক কর্মী বলেন, “নিজেদের আসন বাঁচাতে দলের অভিভাবকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এর-ওর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন৷ কখনও সিপিএম কখনও তৃণমূলের সঙ্গে জোট হচ্ছে৷ এখন তো বিজেপিকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে না৷ অথচ আমরা যারা মাঠে নেমে পরিশ্রম করি তাদের মতামতকে কোনও গুরত্বই দেওয়া হচ্ছে না৷তাদের ইচ্ছে-অনিচ্ছে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷এইভাবে কি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়?”

----
--