শতাব্দী পেরিয়ে কেমন হবে গৃহস্থের অন্দরমহল

kolkata24x7.com-এর জন্য এক্সক্লুসিভলি লিখছেন গৃহসজ্জা বিশেষজ্ঞ সুদীপ ভট্টাচার্য। আমার বাড়ি বিভাগে এর আগে হালফ্যাশানের ইন্টিরিয়র টিপস দিয়েছেন এই বাঙালি। এবার একশো বছর পেরিয়ে কেমন হবে গৃহস্থের অন্দরসজ্জা, তারই কিছু ঝলক তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে-

সারা দিনের কাজের পর মি: জিষ্ণু প্রতিম চট্টোপাধ্যায় বাড়ি ফিরছেন। রাত তখন প্রায় ৯টা হবে। জুন মাস, গরমটাও প্রচণ্ড। গাড়িতে AC টা চালিয়ে দিয়েছেন-বাড়িতে ফিরে একটু আরামের ঘুম দরকার। মি: চ্যাটার্জির আবার একটু বেশিই ঠান্ডা পছন্দ। গাড়ি যখন তাঁর বাড়ির প্রায় এক কিলোমিটার দূরে, নিজের মোবাইল ফোন থেকে, বেডরুমের AC টা চালিয়ে দিলেন। শুধু চালিয়েই দিলেন না, টেম্পারেচারও বেশ কমিয়ে রাখলেন।

গাড়িটাকে গ্যারেজে পার্ক করলেন মি: চ্যাটার্জি। এবার বাড়িতে ঢুকবেন। মেইন ডোরটাও বন্ধ। কিন্তু সামান্য এক চাকতিতে হালকা চাপ দিতেই চিচিং ফাঁক। মিস্টার চ্যাটার্জি ও তাঁর বাড়ির লোকজন ছাড়া অন্য কেউ হাজার চেষ্টা করেও বাড়ির দরজা খুলতে পারতেন না। এমনটাই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে।ravishing-modern-living-room-best-interior-design

- Advertisement -

ঘরের ভিতরে একটা মাত্র আলো ছাড়া, অন্যান্য আলোগুলি নেভানো। বেশ অন্ধকার চারিদিকে। বাড়িতে কেউ নেই? নিজের মনে প্রশ্নটা চলেই এল তাঁর। হঠাৎ খেয়াল হল- আরে তাই তো বাড়ির সবারই আজ একটা নিমন্ত্রণে যাওয়ার কথা, বোধহয় সেখানেই গিয়েছে।

প্রবেশ দরজার ঠিক পাশেই দেওয়ালে ছোট্ট একটা টাচ প্যানেল। এটা শুধুই জিষ্ণু প্রতীম ব্যবহার করেন। দেখতে দেখতে সব আলো জ্বলে উঠল। নিজের মোবাইলটাকে এবার রিমোট করে নিলেন তিনি-মোবাইল রিমোট থেকেই বাড়ির সমস্ত আলোগুলো কন্ট্রোল করেন তিনি।

বাথরুমের গিজারটা বাড়ি ঢোকার সময়ই রিমোট থেকে চালু করে দিয়েছিলেন। যতই গরম হোক, বাড়ি ফিরে একটু গরম জলে স্নান করার অভ্যাস তাঁর বহুদিনের। বাথরুমে শাওয়ার-বাথের ব্যবস্থা রয়েছে। স্নান করতে করতে যেন হালকা একটা ম্যাসাজও হয়ে যায়। বাথরুমেই ছোট্ট ওয়ার্ডরব রয়েছে তাঁর। একেবারে নাইট ড্রেস পড়েই বেরলেন মি: চ্যাটার্জি। নিজেকে বেশ ফ্রেশ মনে হচ্ছিল।

এবার চাই একটু বিশ্রাম। বসার ঘরে একটা লেদারের সোফায় বসলেন তিনি-বেশি আলো বিশ্রামের সময় পছন্দ করেন না। ফলস সিলিংয়ের ভিতর থেকে বিচ্ছুরিত হওয়া আলোটা মোবাইল রিমোট দিয়ে জালিয়ে দিলেন তিনি। অন্য সময় হলে হালকা লাল বা হলুদ-সবুজ আলো ভালো লাগতো তাঁর। আজ ইচ্ছে হলো নীল আলোয় স্নান করবেন। তাই নীল আলোর LED টাকে জ্বালিয়ে দিলেন।

sudip-
১০০ বছর পর কেমন দেখতে হবে গৃহস্থের অন্দর, খোঁজ দিলেন সুদীপ ভট্টাচার্য

বিশ্রাম নিতে নিতে টিভিতে চোখ বোলানো তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে সারাদিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান রেকর্ড করে রাখেন-আর বাড়ি ফিরে সেগুলি দেখেন। আজ যেমন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে T-20 ম্যাচটা ছিল, সেটা দেখার ইচ্ছে তাঁর।

সোফায় আরাম করে বসে সামনে তাকালেন। সামনে কোন দেওয়াল নেই, শুধুমাত্র কাঁচের পার্টিশন। স্বচ্ছ কাঁচের উপর আসাধারণ নৈসর্গিক দৃশ্য। আর এই কাঁচের সঙ্গেই LCD টা লাগানো রয়েছে- আর মিস্টার জিষ্ণু প্রতীম চ্যাটার্জি আরাম করে বসে সেটা দেখছেন।

কাঁচের বাইরে থেকে আলো আসছিল। শহর কলকাতা রাত ৯তা মানে সন্ধ্যে বেলা। কাঁচের বাইরে থেকে আলো আসছে আর তাই টিভি দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। হাতের রিমোট কন্টোল দিয়ে পর্দাটা সম্পূর্ণ টেনে দিলেন।

কিছুক্ষণ সোফায় বসে টিভি দেখার পর মনে হল এবার একটু বেডরুমে যাওয়া দরকার। শোওয়ার ঘরের ভিতর বড়ো খাট। মাথার বালিশগুলি খাটের বক্সের ভিতর। শুধুমাত্র রিমোট ব্যবহার করে বক্স খাটের আইড্রোলিক সিস্টেমটাকে উপরে তুলে দিলেন। এবার ভিতর থেকে বালিশ বার করে সেটা আবার বন্ধ করে দিলেন। খাটে শুয়ে নিজের ট্যাবলেট-কম্পিউটার টাকে বার করলেন। অফিসের বেশ কিছু কাজ বাকি, এছাড়া নিজের ই-মেল গুলোকেও চেক করে নিতে হবে।  আবার কাজে ঢুকে গেলেন মিস্টার চ্যাটার্জি। 2-

হঠাৎ মনে হল ঘরের আবহাওয়াটা একটু পাল্টে নিলে কেমন হয়, একঘেয়েমি একেবারেই না পসন্দ তাঁর। সমুদ্র ভীষণ ভালোবাসেন। ইচ্ছে হল ঘরটাকে একটু সমুদ্রের নীচের পরিবেশের মতো করে তুলতে পারলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। আবার রিমোটের একটা ছোট্ট কারসাজি। হঠাৎ করে সারা ঘরটায় অদ্ভুত পরিবর্তন। আলো আঁধারি খেলায় এক অদ্ভুত মায়াজগৎ। যেন সত্যি সত্যিই সমুদ্রের তলার পরিবেশ। সঙ্গে দারুণ সাউন্ড এফেক্ট। মি: চ্যাটার্জি এবার সত্যি-সত্যিই উপভোগ করছেন এটা। তবে এরকমটা তিনি মাঝে মাঝেই করেন, ইচ্ছে মত তিনি চলে যেতে পারেন স্পেসে, জঙ্গলে মধ্যে, কিংবা পাহাড়ে ঘেরা এক মায়াময় লেকের কাছে। সবটাই মায়া। আরে সবটাই আলো আর সাউন্ডের কারসাজি আর অসাধারণ অন্দর-সজ্জার কামাল।

আস্তে আস্তে মি: চ্যাটার্জি ঘুমিয়ে পড়েন। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এক অসাধারণ ঘুম। রাত বাড়তে থাকে-মি: চ্যাটার্জি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন-সাবমেরিন চেপে সমুদ্রের নীচে ভেসে বেড়াচ্ছেন তিনি-ঘুম আরও গভীর হয়-আরও গভীর।

Advertisement ---
---
-----