এবার ভরতি প্রক্রিয়া বয়কটে সামিল ‘ইন্টারন্যশনাল রিলেশনস’-এর অধ্যাপকরা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলা, ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য৷ একে একে কলা বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ের অধ্যাপকরা ভরতি প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন৷ রবিবার এই ভরতি প্রক্রিয়া বয়কটে সামিল হলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপকরাও৷ এদিন উপাচার্য সুরঞ্জন দাশকে একটি ই-মেইল করে নিজেদের সিদ্ধান্ত ও দাবি দাওয়া জানিয়েছেন এই বিভাগের অধ্যাপকরা৷

অন্যদিকে, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনশনকারী পড়ুয়াদের কাছ থেকে সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত সময় চেয়ে অনশন প্রত্যাহার করার আবেদন জানায়৷ কিন্তু, সেই আবেদন খারিজ করে উল্টে আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া সময়সীমা৷ তাঁদের দাবি, রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে জরুরী কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে হবে৷ কিন্তু, ছাত্রদের দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে৷ এখনও প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

তবে, এই সোমবারের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান চাইছে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা৷ আর্টস এন্ড ফ্যাকাল্টি স্টুডেন্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত সময় চেয়েছিল৷ আমাদের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি৷ আমরা চাইছি কালকের থেকে যেন বেশি দেরি না হয়৷ তাই অনশন কর্মসূচীর পাশাপাশি আমাদের আন্দোলনকে কী করে আরও জোরদার করা যায় তার পরিকল্পনা করছি৷’’ এদিন জেনারেল বডি বৈঠকে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা৷

- Advertisement -

নিজেদের আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ভাবনা চিন্তা করছে যাদবপুরের অধ্যাপক সংগঠন জুটা৷ এই সংগঠনের সহকারি সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ‘‘বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো সব বিভাগের অধ্যাপকরাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন৷ আমরা রাজ্যপালের কাছে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি৷ কিন্তু, সেই চিঠির এখনও কোনও উত্তর আসেনি৷ যদি রাজ্যপাল আমাদের সঙ্গে দেখা করেন তাহলে তাঁর কাছে এখনও পর্যন্ত যা যা হয়েছে তা বলব৷ সঙ্গে আমাদের দাবি দাওয়াও তুলে ধরব৷

কিন্তু, বর্তমানে অনশনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষণাবেক্ষণের দিকেই নজর দিচ্ছে এই অধ্যাপক সংগঠন৷ পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষক হিসাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে আছি৷ অনশনে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী বসেছে তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন৷ আমরা এখন দেখছি, কারও কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না৷ হলে তাকে বুঝিয়ে হাসপাতালে পাঠানো৷ এই ধরনের কাজ করতে চাইছি আমরা৷’’ তিনি জানিয়েছেন, সোমবার প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কোনও সমাধান না করলে আগামী মঙ্গলবার একটি প্রতিবাদ মিছিল ও বুধবার একটি কনভেনশন করা হবে জুটার তরফ থেকে৷

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের মুখ চেয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ সূত্রের খবর, সোমবারের আগে কোনও সমাধানের আশা খুবই কম৷ রিপোর্ট দেখে ওইদিনই রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি তাঁর সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন৷

Advertisement ---
-----