সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিকের সমকক্ষ কেউ নেই: বরুণ চন্দ

অভিজ্ঞতা ও অভিনয় দক্ষতা দুটোই রয়েছে। আশির দশক থেকে বর্তমান প্রজন্মের বেশ কিছু পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। ভালো ছবি হচ্ছে। তবে সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকের মতো আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছবি কি আর হচ্ছে? সম্প্রতি কলকাতা 24*7 –এর প্রতিনিধি রাকেশ নস্করকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই আক্ষেপ প্রকাশ পেল অভিনেতা বরুণ চন্দ’র কথায়।

প্রশ্ন – সত্যজিৎ রায়ের ছবি  আর এখনকার ছবিগুলিতে কি পার্থক্য রয়েছে ?
বরুণ চন্দ-  একদম আলাদা !!! সত্যজিৎ বাবুর কাজ একদম ক্লাসিকাল সেখানে সব কিছুই মেপে করা হত। কাজের আগে ভেবে নেওয়া থাকত। নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলা হত। যেমন যে শট গুলো নেবো সেই শট ব্রেক ডাউন করা থাকত। ক্যামেরা কোথায় বসবে সেটাও জানতাম। সব কিছু রেডি করা থাকত। একদম নিখুঁতভাবে চলতেন। অন্যদিকে আজকালকার পরিচালক..চ্যাপ লাইক রিঙ্গো অনেক কিছুই করতে পারে। এমন কি বাপ্পাদিত্য যিনি মারা গেলেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে আমার একটা ছবি করার অভিজ্ঞতা হল ‘সোডা ব্রিজ’ যেটা ইন্ডিয়ান প্যানোরমায় মনোনীত হয়েছে। ছবিটির জন্য আমি গোয়ায় গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন – তখন অতো প্রযুক্তির রমরমা ছিল না এখন অনেক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এসে গিয়েছে…আমরা তখন এগিয়ে ছিলাম না.. পিছিয়ে ছিলাম?
বরুণ চন্দ – সেটা বলা মুশকিল… কিন্তু ওই ধাঁচের পরিচালক এখনও পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি যাদের এই তিনজনের সমকক্ষ বলে মনে করব। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে এরা থিম্যাটিক। যেমন মৃণালের বা ঋত্বিক ঘটকের গল্প ধরুন এমন জিনিস রয়েছে যাকে বলে নাভিপ্রদেশে নাড়া পরবে। এমন এক একটা গল্প, থিম নিয়ে তৈরি হত সেই জিনিসটা কোথায়..? যেটা থিম্যাটিকালি আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারবে। অনেক রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে যেমন ধরুন শব্দ বা ফলি আর্টিস্টকে নিয়ে ছোট ক্যানভাসের ছবি খুব সতর্কতার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে। খুব ভালোই কিন্তু তুমি কি তাঁকে এমন কোনও থিম বলতে পারবে যার জন্য বিশ্বের দরবারে যায়গা করে নিতে পারবে? বা যেটা সবাইকে নারা দেবে। খুব সিরিয়াস ফিল্ম হলেও…কি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন বা ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন কি? পারবে না!!!
photoessay3--621x414

- Advertisement -

প্রশ্ন – আমাদের কি বিষয়ের সমস্যা… তার জন্যই কি আন্তর্জাতিক স্তরে ছাপ ফেলতে পারছি না?
বরুণ চন্দ – আমায় কিছু বলতে হবে না। সত্যজিৎ বাবুর যদি এক একটি গল্প নেওয়া যায় তাতে স্পষ্ট বোঝা যাবে যে এই ধর্ম নিয়ে এইভাবে করা হয়েছে। এবং গল্পের যে পরিণতি সেটা কিন্তু অবিস্মরণীয় বিষয়। সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তেমন ছবি কি আর তৈরি হচ্ছে? 

প্রশ্ন – আপনি অতো বড় একজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন…আপনি কি বলবেন?
বরুণ চন্দ –  সত্যজিৎ রায়ের ছবি যদি কেউ ইদানীং দেখে থাকে… তাহলে মনে হবে ছবিটির তেমন গতি নেই। কারণ আজকাল সব প্যারালাল এডিটিং করেই ছবি হয় যার জন্য একটা সিন-এ তিরিশ সেকেন্ডের বেশি থাকবে না। তৎক্ষণাৎ প্যারালাল অ্যাকশনে চলে যাবে.. আবার ব্যাক করবে। যাতে আপনি বিরক্ত না হন। মানুষ আজকাল খুব শীঘ্রই নিরাশ হয়ে ওঠে। তাই এই জেনারেশনের কিছু মানুষ তখনকার ছবি পছন্দ নাও করতে পারে।

প্রশ্ন – বেলাশেষে খুব ভালো ব্যবসা করল.. মানুষ পছন্দও করেছে…এই বিষয় কি বলবেন ?
বরুণ চন্দ – ওটা কিন্তু সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক নয়। ওটা হচ্ছে তরুণ মজুমদার। 'বেলাশেষে' একটি সফল ছবি। ইদানীংকালে আমি বলবো একদম সম্পূর্ণ ছবি। তরুণ বাবু এটা দেখে বলবেন ..হ্যাঁ .. আমার পদানুসরণ করে খুব সুন্দর ছবি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদক – রাকেশ নস্কর

Advertisement ---
---
-----