‘আমার ভায়োলিন প্লেয়ার রয়েছে বাস্তবেই…’

কলকাতা: ১৬নভেম্বরের পর থেকে কলকাতা সিনেপ্রেমীদের মুখে মুখে ফিরছে পরিচালক বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’। ইতিমধ্যে ২০১৬ ডার্বান আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ফিচার সিনেমার তকমাটি এসেছে ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ারের’ ঝুলিতে। কিন্তু সে তো বিদেশের কথা। নিজের ঘরে প্রশংসা পেয়ে কেমন লাগছে পরিচালকের। বৌদ্ধায়নের মুখ থেকে শুনলেন মানসী সাহা

প্রশ্ন: প্রথমেই তোমাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, তোমার ছবি কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এতটা প্রশংসা পাওয়ার জন্য। সবার মুখে মুখে এখন ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’। কেমন লাগছে এই সময়টা?
বৌদ্ধায়ন: ওয়ান্ডারফুল একটা টাইমিং। এই ফিলিংসটা হয়তো অন্য ফেল্টভ্যালে হলে, এতটা ভাল লাগত না। কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল যতটা ভাল লাগছে। আফটারঅল, ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা তো। নিজের হোমগ্রাউন্ডে, নিজের লোকজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই ফিলিংসটা অনুভব করার আনন্দটাই আলাদা।

প্রশ্ন: অবশ্যই, নিজের ঘরের কথাই তো আলাদা। এরপর কোথায় স্ক্রিনিং হচ্ছে ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’-এর?
বৌদ্ধায়ন: আমরা এবার যাচ্ছি নিউইয়র্ক। তারপর রাশিয়া। তারপর চেন্নাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হচ্ছে ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে আমার এই ছবিটি দেখানো হবে। কিন্তু এই মুহুর্তে নাম গুলি বলতে পারছি না!

প্রশ্ন: গ্রেট নিউজ ফর কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। তবে ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’ কি শুধু ফেস্টিভ্যালে আটকে থাকবে? নাকি পর্দায় রিলিজের প্ল্যানিং আছে?
বৌদ্ধায়ন: রিলিজ করার তো একটা প্ল্যানিং মোটামুটি আছে। তবে এই মুহুর্তে নয়! দেখো প্রতিটি ফ্লিমের একটা ফেস্টিভ্যাল লাইফ থাকে। ‘দ্য ভায়োলিন’ প্লেয়ার’-এর এখন সেই লাইফ শেষ হয়নি। তাছাড়া নেটফ্লিক্স আমার এই ছবিটি কিনে নিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেখানে দেখা যাবে ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’।

প্রশ্ন: দর্শকদের তরফ থেকে একটা জিজ্ঞাসা রয়েছে। যাঁরা তোমার এই ছবিটি মিস করে গিয়েছেন, তাঁদের কোনও উপায় কি আছে, কলকাতায় দেখার?
বৌদ্ধায়ন: নাহহহ্..এই মুহুর্তে কোনও অপশন নেই। যদি না তাঁরা নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে চেন্নাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আসেন।

প্রশ্ন: জার্নিটা শুরু হয়েছিল অ্যাডফিল্ম দিয়ে। তারপর কমার্শিয়াল। এখন শর্টফিল্ম! এই ডিফারেন্সটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
বৌদ্ধায়ন: ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’কে শর্ট ফিল্ম বলাটা ঠিক হবে না। ইট ইজ অ্যা ফিচার ফিল্ম। দেখো, ফিচার ফিল্ম দু’রকমের হয়। এক ফুল লেন্থ ফিচার ফিল্ম। দুই ফিচারেট। আমার ছবিটা ফিচারেট ক্যাটাগরির।

bodhayan-2

 

প্রশ্ন: এবার একটু তোমার ভায়োলিন প্লেয়ারের প্রসঙ্গে আসি। এই চরিত্রটা কি তোমার কল্পনাপ্রসূত নাকি বাস্তবের কোনও যোগসূত্র রয়েছে?
বৌদ্ধায়ন: আমার ভায়োলিন প্লেয়ারের চরিত্রটা কাইন্ড অফ সত্য ঘটনা অবলম্বনে। মুম্বইতে আমি এমন একটি মানুষকে জানি, যার সঙ্গে এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। গল্পটি তাঁর মুখ থেকে শোনার পর, আমার মনে হয়েছিল এটা নিয়ে ছবি বানানো যায়। তারপর আর কি! লিখতে বসে পড়লাম।

প্রশ্ন: এই চরিত্রটা নিয়ে একটু বলবে? আর ব্ল্যাকআউট প্রসঙ্গে…?
বৌদ্ধায়ন: মানুষ যখন আনকমফরটেবল সিচ্যুয়েশনের মধ্যে পড়ে, তখন তাঁর কাছে দুটি অপশন খোলা থাকে। এক সিচ্যুয়েশনটার সঙ্গে লড়াই করা। না হলে পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়া। আমার ভায়োলিন প্লেয়ার হল পলায়নবাদী মনস্কের। সে যেকোনও আনকমফরটেবল সিচ্যুয়শনে পড়লে, প্রথমে চোখ বন্ধ করে নেয়। এই চোখ বন্ধ করে নেওয়ার মুহুর্তটা আমি ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে দেখিয়েছি।

প্রশ্ন: এই চরিত্রটার জন্য কেন হৃতিক? অন্য কেউ কেন নয়!
বৌদ্ধায়ন: ফাইনাল সিলেকশনটা আমিই করেছিলাম। তবে আমার এডিটর অর্ঘ্য কমল মিত্রকে যখন গল্পটা শোনাচ্ছিলাম, তখন অর্ঘ্য আমাকে এই চরিত্রের জন্য হৃতিকের নাম সাজেস্ট করেছিলেন। তাছাড়া অনেক আগে, আমার স্ত্রী (মোনা) হৃতিকের একটা টেলিফিল্ম দেখার পর আমাকে বলেছিল আমাদের হৃতিকের সঙ্গে কাজ করা উচিত। তাই অর্ঘ্যর কাছ থেকে যখন নামটা আসে আমি লুফে নিলাম। মনে হয় হ্যাঁ হৃতিক কারেক্ট চয়েস।

bodhayan-1প্রশ্ন: তোমার এই চয়েসের প্রশংসা তো ছবি দেখার পর সবার মুখে মুখে। তুমি কি বলবে, হৃতিকের অভিনয় নিয়ে?
বৌদ্ধায়ন: (হাসি) নিজের সন্তানকে কোন মা খারাপ বলবে বল! তবে হৃতিকের সঙ্গে কাজ করার পর একটা কথা শুধু বলতে পারি, ও হৃদয় দিয়ে অভিনয় করে। আমি চাই ওর প্রতিভা শুধু কলকাতায় আটকে না থেকে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক৷

প্রশ্ন: ‘দ্য ভায়োলিন প্লেয়ার’এর পর নেক্সট কি পাচ্ছি আমরা?
বৌদ্ধায়ন: হুমম… একটা গল্প লিখছি। ইংরেজি সিনেমা। এখন শুধু এইটুকু। বাকিটা সময়ের জন্য তোলা থাক।

----
-----