বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দিতে প্রকাশ্যে শূকরের মাংস খাওয়ানোর কর্মসূচি৷ এবং, পশ্চিমবঙ্গ শিবসেনার এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেসের বুদ্ধিজীবীদের৷

তবে, শুধুমাত্র এমনও নয়৷ আগামী শুক্রবার, ২৯ জুন সল্টলেক করুণাময়ীতে শূকরের মাংস খাওয়ানোর এই কর্মসূচিতে যাতে সব নাগরিক এবং বুদ্ধিজীবী অংশগ্রহণ করেন, তার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে এ রাজ্যের শিবসেনা৷

Advertisement

আরও পড়ুন: গোমাংসে প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবীদের এ বার বরাহর মাংস খাওয়াবে শিবসেনা

পশ্চিমবঙ্গে শিবসেনার সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র অশোক সরকার kolkata24x7.com-কে বলেন, ‘‘শুক্রবার, ২৯ জুন বিকাল চারটের সময় সল্টলেকের করুণাময়ীতে প্রকাশ্যে শূকরের মাংস খাওয়ানোর জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে৷ শূকরের মাংস খাওয়ার জন্য রাজ্য শিবসেনার এই অনুষ্ঠানে আরএসএসের জিষ্ণু বসু এবং বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায়কে হোয়াটসঅ্যাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সিপিএমের সাংসদ মহম্মদ সেলিম, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কবি সুবোধ সরকারকেও শুক্রবার শূকরের মাংস খাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷’’ কবি সুবোধ সরকার বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের বুদ্ধিজীবী হিসাবে পরিচিত৷ এবং, বুদ্ধিজীবী হিসাবেও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র, সিপিএমের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর বেশ পরিচিতি রয়েছে৷

এ দিকে, এ রাজ্যের শিবসেনার মুখপাত্র kolkata24x7.com-কে আগেই বলেছিলেন, ‘‘যে সব বুদ্ধিজীবী ধর্মতলায় প্রকাশ্যে গোমাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, শূকরের মাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য তাঁদের আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘‘গোমাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানানো গেলে শূকরের মাংস খেয়েও প্রতিবাদ জানানো উচিত৷’’ তবে, আমন্ত্রণ জানানো হলেও, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিষয়ে জিষ্ণু বসু, বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায় এবং মহম্মদ সেলিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুবোধ সরকার হোয়াটসঅ্যাপে কোনও উত্তর দেননি বলে জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: বুদ্ধিজীবীদের শূকরের মাংস খাওয়ালে তৃণমূলের লাভ, দাবি কংগ্রেসের

সম্প্রীতি রক্ষায় আগামী শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন পোস্টার রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে৷ অশোক সরকার বলেন, ‘‘কে, কী খাবেন, সেটা অবশ্যই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়৷ কিন্তু, গোমাংস খেয়ে যাঁরা সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন, শূকরের মাংস খেয়েও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছে রাজ্য শিবসেনা আর্জি রাখছে৷’’ গোমাংস বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কয়েকটি রাজ্যের তৎপরতার প্রতিবাদে, ২০১৫-র ৩০ অক্টোবর ধর্মতলায় প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ-কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল৷ ভাষা ও চেতনা সমিতির ওই কর্মসূচিতে অন্যান্যদের সঙ্গে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুবোধ সরকারও শামিল হয়েছিলেন৷

----
--