তেহেরান: হুমকি দিলে বৈঠক নয়৷ ইরান উত্তর কোরিয়া নয়৷ ঠিক এই ভাষাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জবাব দিল ইরান৷ পরমানু কার্যকলাপ বন্ধ করানোর হুমকি দিয়েই ইরানের সঙ্গে পরমানু বৈঠকে বসতে চেয়েছিল আমেরিকা৷ সেই হুমকি বার্তাকেই সরাসরি নাকোচ করল ইরান৷ দেশের বিদেশ মন্ত্রী জাভেদ জারিফ জানালেন, কোনওরকম চাপের মুখে ফেলে ইরানকে বৈঠকে রাজি করাতে পারবে না আমেরিকা৷ রাজনৈতিক নিয়ম মেনে বৈঠক করলেই এগোবে ইরান৷

২০১৫ সাল থেকেই চলছে মার্কিন-ইরান টানাপোড়েন৷ চলতি বছরের ৬ অগাস্ট দুই দেশের পরমানু বৈঠক স্থির হয়৷ তেহেরান সেই বৈঠকের জবাবও দেয় কূটনৈতিক কায়দায়৷ কোনওরকম চুক্তি ছাড়া যে কোনও সময় বৈঠকে প্রস্তুত ইরান বলে জানান হয়৷ আন্তর্জাতিক মহলে ইরানকে ছোট করা বন্ধ করুক আমেরিকা৷ আমেরিকার হুমকি,চুক্তি তেহেরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে কাজে আসবে না৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই ট্যুইট করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী৷

বিভিন্ন সমাবেশে ইরানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি আমেরিকা৷ পরমানু কার্যকলাপ প্রসঙ্গে ইরানকে ‘বাজে সময় দেখানোর’হমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প৷ ওয়াশিংটন ডিসি থেকেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন ইরান সাবধান না হলে আমেরিকা বুঝে নেবে৷ এই বক্তব্যকেই পাল্টা কটাক্ষ করে তেহেরান৷ ট্রাম্পকে ইরানের জবাব, পরিষ্কার ভাবে কথা বলুক ট্রাম্প৷ হুমকি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই বলে জানায় ইরান৷

ইরানের পরমানু অস্ত্র উৎক্ষেপণকে ‘ভয়ানক প্রদর্শন’ বলেছিলেন ট্রাম্প৷ বিশ্বের দরবারে ইরানকে কোনঠাসা করতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না৷ বাণিজ্যিক খাতে ইরানকে শূন্য করতে আমেরিকা অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে৷ ভারত সহ বিভিন্ন দেশকে অরান থেকে তেল আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলা হয়েছে৷  এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে ইরান আগেই জানায়, ইরানের বাণিজ্য কোনওভাবেই বন্ধ করতে পারবে না আমেরিকা৷ পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে ইরান? তাকিয়ে আমেরিকা৷

----
--