কম্বল, বালিশ, মগ চুরি ঠেকাতে অভিনব সিদ্ধান্ত রেলের

নয়াদিল্লি: যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর রেখে পরিষেবা উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়ে থাকে ভারতীয় রেল৷ কিন্তু প্রতিদিন যে হারে রেলের ‘সম্পত্তি’ চুরি হচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন কর্তারা৷ বিছানার চাদর থেকে শুরু করে বালিশ, বালিশের কভার, টাওয়েল এই সব টুকটাক হাত সাফাই তো লেগেই থাকত৷ কিন্তু যত দিন যাচ্ছে চুরির তালিকা তত লম্বা হচ্ছে৷ কামরার সিলিং ফ্যান, টয়লেটে ব্যবহৃত মগ এমনকী জলের ট্যাপও গায়েব হয়ে যাচ্ছে বেমালুম৷ চুরির রিপোর্ট যখন করা হয় তখন কিছু করার থাকে না রেল কর্তাদের৷ তাই ‘সম্পত্তি’ বেহাত হওয়া থেকে বাঁচাতে অভিনব সিদ্ধান্ত রেল মন্ত্রকের৷

সম্প্রতি রেলের প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোহেন আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, সফর শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কামরা থেকে সব বালিশ, কভার, চাদর তুলে নিতে হবে৷ কোনও কামরা থেকে জিনিস পাওয়া না গেলে তার দায় কিন্তু রেলের কর্মী বা ঠিকাদার সংস্থাকে নিতে হবে৷ রেল আধিকারিকদের আশা, এতে যদি কিছু লাভ হয়৷

গত বছর অক্টোবর মাসে ওয়েস্টার্ন রেলের তরফে একটি পরিসংখ্যান সামনে আনা হয়৷ সেখানে ২০১৭ সালে কামরা থেকে কত জিনিস চুরি গিয়েছে তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে৷ যেমন বলা হয়েছে দুর পাল্লার ট্রেনে ১.৯৫ লক্ষ টাওয়েল, ৮১ হাজার ৭৩৬টি বিছানার চাদর, ৫৫ হাজার ৫৭৩টি বালিশের কভার ও ৭ হাজার ৪৩টি কম্বল চুরি হয়েছে৷ এর বাইরে ২০০টি টয়লেট মগ, এক হাজার জলের ট্যাপ ও ৩০০টি ফ্ল্যাশ পাইপের কোনও হদিশ মেলেনি৷

- Advertisement -

ওই পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৩৫০টি হাত মোছার টাওয়েল, ২৭ হাজার ৫৪৫টি বেড কভার, ২১ হাজার ৫০টি বালিশের কভার, ২ হাজার ১৫০টি বালিশ ও ২ হাজার ৬৫ কম্বল চুরি গিয়েছে৷ সব মিলিয়ে ৬২ লক্ষ টাকার সামগ্রী খোয়া গিয়েছে৷ এপ্রসঙ্গে তেজস এক্সপ্রেসের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়৷ তেজস থেকে খোয়া গিয়েছে হেডফোন৷

এছাড়া কামরায় নতুন বসানো এলইডিও ভেঙে দিয়েছে উশৃঙ্খল যাত্রীরা৷ নতুন প্রিমিয়াম ট্রেন থেকেও জিনিসপত্র চুরি যাওয়ার অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করেছে রেলের কাছে৷ এখন দেখার চুরি আটকাতে রেলের নয়া সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরী হয়৷