ছবি: ফাইল

বিশেষ প্রতিবেদন: শতবর্ষ কবেই পার হয়ে গিয়েছে৷ রথের দিনে এখনও আগের মতোই লোক সমাগমে এখনও গমগম করে মাহেশ৷ আসেন বহু দর্শক৷ ভিনদেশী পর্যটকরা৷ এসব পরিচিতি দৃশ্য৷ শ্রীরামপুরের মাহেশে হয় দেশের অন্যতম সেরা রথযাত্রা উৎসব৷ এমনই রথ ঘিরে জড়িয়ে আছে কত গল্পকথা৷ মিশে আছে লাখো মানুষের হাতের ছোঁয়া৷ রশিতে টান দেওয়া৷ এমনই আনন্দ প্রতিবছর হয়৷ তার মধ্যে মিশে থাকে ব্রিটিশ কোম্পানির কথা৷ যাদের হাতে নবরূপে এসেছিল বিখ্যাত মাহেশের রথ৷

কিংবদন্তী বলে, ইতিহাস বলে সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী স্বপ্ন পেয়ে গঙ্গায় ভেসে আসা নিমকাঠ দিয়ে দারুমূর্তি তৈরি করেন। পরে ১৭৫৫ সাল কলকাতার নয়নচাঁদ মল্লিক মাহেশে জগন্নাথ দেবের মন্দির তৈরি করেছিলেন৷ সময়ের সঙ্গে সেই রথ জীর্ণ হয়ে পড়েছিল। কৃষ্ণরামের ছেলে গুরুপ্রসাদ ১৭৯৮ সালে নয় চূড়াবিশিষ্ট নতুন রথ বানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই রথ ঘিরেই উৎসবে মেতে উঠতেন সবাই৷ তবে সবকিছু পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল ১৮৮৪ সালের অগ্নিকাণ্ডে৷ সেই দিনও ছিল রথযাত্রা উৎসব৷ বল্লভপুরে গুন্ডিচাবাটিতে রথটি আগুনে পুড়ে যায়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছিল পুরাতন মাহেশের রথ৷

ফাইল
Advertisement

এরপর কী হবে? আর কি মাহেশের রথে মাসির বাড়ি যেতে পারবেন জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা? পোড়া রথের দিকে তাকিয়ে এমনই আফসোস করেছিলেন শ্রীরামপুরবাসী৷ তখন বসু পরিবারেরই কর্তা কৃষ্ণচন্দ্রবাবু বর্তমান লোহার রথটি তৈরি করিয়ে দেন। কে বানাবে নতুন রথ? এগিয়ে এসেছিল ব্রিটিশ মার্টিন বার্ন কোম্পানি৷ তাদের ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে মাহেশের রথটি তৈরি হয়। সেই সময়েই এর দাম পড়েছিল ২০ লক্ষ টাকা। ১৮৮৫ সাল থেকে ফের ওই রথের রশিতে টান শুরু হয়। সেই থেকে এক ভাবে ওই রথ চলছে। ৫০ ফুট রথে ১২টি লোহার চাকা হয়েছে।

মার্টিন-বার্ন কোম্পানি৷ উপনিবেশ ভারতে বিদেশি বিনিয়োগে শিল্প প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল নাম৷ দেশের শিল্প ইতিহাসে এই সংস্থার নাম জড়িয়ে রয়েছে৷ অন্যতম দেশীয় শিল্পপতি স্যার রাজেন মুখার্জির সঙ্গে স্যার টমাস অ্যাকুইন মার্টিনের অংশীদারত্বে ১৮৯০ সালে গড়ে ওঠে মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি৷ বেলুড় মঠ, ইডেন গার্ডেনের ক্লাব হাউস সহ একাধিক স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই সংস্থার নাম৷ একাধিক কাজে সফলতার দেখেছিল সাহেবদের কোম্পানি৷ তবে মাহেশের রথ নবরূপে তৈরি করাই ছিল সংস্থার অন্যতম কাজ৷ ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ কোম্পানির সাফল্যের ইতিহাস৷

----
--