সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বন্যা রুখতে প্রুস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সেচ দফতর। ইতিমধ্যেই দফতর নেমে পড়েছে কোমর বেঁধে। উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টির জেরে এখনই ফুঁসতে শুরু করেছে পাহাড়ি নদীগুলি। যে কোনও মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার প্রত্যেক বছরই প্লাবিত হয়ে যায়। তাই এখন থেকেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজে নেমে পড়েছে সেচ দফতর।

বর্ষা আসা মানেই প্রত্যেক বছর বন্যা সেচ দফতরের মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ায়। উত্তরবঙ্গের বৃষ্টিতে পুষ্ট নদীগুলিও ভারি বর্ষা হলেই জল বেড়ে যায় খুব তারাতারি। ফি বছর জল যন্ত্রণা থেকে মানুষকে বাঁচাতে নাভিঃশ্বাস ওঠে রাজ্য সরকারের। তাই বর্ষার মরসুমের শুরুতেই জল যন্ত্রণা যাতে কম ভোগ করতে হয়, যাতে তারাতারি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বা মানুষের কাছে দ্রুত ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থাই নিচ্ছে সেচ দফতর।

কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সেচ দফতর? দফতরের নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “প্রত্যেকটি জেলাতেই আমরা কন্ট্রোল রুম খুলেছি। এই কন্ট্রোলরুমগুলির প্রধান দফতর করা হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জল বিপদসীমার উপরে গেলেই ওই জেলার জেলাশাসক খবর দেবেন জলপাইগুড়িতে। তারপর আমরা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তৈরি। ত্রান দেওয়া থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য সমস্ত কাজেই আমাদের কর্মীরা তৈরি রয়েছে। বাঁধ দেওয়ার জন্যও বেশ কিছু কাজ চলছে।”

সেচ দফতর তথ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে উত্তরবঙ্গে বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর জল খুব বিপদ সীমার খুব কাছে চলে এসেছে। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী ২০.৮৯ মিটার উচ্চতায় রয়েছে এই নদীর জলস্তর। বিপদসীমা ২৩.১৫ মিটার। মালদহের মানিকচকাঘাট ডিভিশনে গঙ্গার জলস্তর ২১.৯৫ মিটার উপরে রয়েছে। বিপদসীমা ২৪.৬৯ মিটার। বিপদসীমা যে খুব কাছেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। জলপাইগুড়ির NH 31 ক্রসিং জলের রয়েছে ৮০.০০ মিটার, বিপদসীমা ৮০.১০ মিটার। মহানন্দা নদীর জল সোনারপুর ডিভিশনে জলস্তর ৭৫.১৮ মিটারে রয়েছে, বিপদ সীমা ৭৫.৭৭। সঙ্কোশ নদীতে ৪৭.২৫ মিটারে রয়েছে জল স্তর, বিপদ সীমা ৪৮.৫০ মিটার। তিস্তার দোমহনি ডিভিশনে ৮৫.৭৬ মিটারে রয়েছে জলস্তর, বিপদ সীমা ৮৫.৯৫ মিটার।

উত্তরবঙ্গের জন্য কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সেচ দফতর? তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গে অবস্থা এখনও ততটা খারাপ হয়নি। ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে বলে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এই জল তিন চার ঘণ্টায় নেমে যায়। তবে তেমন সমস্যা হলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

গত ২৪ ঘণ্টায় বাগডোগরায় ১৩৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির পরিমান ১৪১.৮ মিলিমিটার। দার্জিলিঙে বৃষ্টি হয়েছে ৬৫ মিলিমিটার। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর বিহার ও ওড়িশার উপর ঘূর্ণাবর্তের জেরে আগামী তিন দিন ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টির পরিমান বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

----
--