ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শেষমুহূর্তে সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নির্দেশে টিম বদলালো৷ রথযাত্রা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে এতদিন দলের সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টার করতেন৷ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে রাজ্য সরকারের মুখ্য এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য যে টিম তৈরি হয়েছিল, তাতে প্রতাপ এবং জয়প্রকাশ ছাড়াও ছিলেন দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুকুল রায়৷ ওই দলই নবান্নে রাজ্য সরকারকে চিঠি জমা দিতে গিয়েছিলেন৷

পরে অবশ্য ফৌজদারি মামলা রয়েছে এই অভিযোগ তুলে মুকুল এবং জয়প্রকাশের নামে না করে দেয় রাজ্য৷ কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে মুকুল ও জয়প্রকাশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার যুক্তি টেকেনি৷ বুধবারই, রাজ্য সরকার জানায়, মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং ডিজিপি বিরেন্দ্রর সঙ্গে বিজেপি প্রতিনিধিদের বৈঠক করতে হবে৷ তবে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে অমিত শাহর নির্দেশে রাজ্যে আসেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ বিজেপির রথযাত্রার মূল টিমে টিমে প্রতাপ এবং জয়প্রকাশকে সরিয়ে জায়গা নেন কৈলাস এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

বৃহস্পতিবার লালবাজারে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার আগেই দিলীপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, অমিত শাহর নির্দেশেই রথযাত্রার মূল টিমের বদল হয়েছে৷ কিন্তু পাঁচ জনের টিম নিয়ে লালবাজারে যাচ্ছে বিজেপি৷ রাজ্য সরকার তাতে রাজিও হয়েছে৷ সন্ধ্যায় রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকের পর দিলীপ বলেন, রথযাত্রা যেদিক থেকে হওয়ার কথা ছিল তাই হবে৷ প্রশাসন নির্দেশ দিলেই হবে৷ তবে রাজনৈতিক মহলে বেশ গুঞ্জন চলছে, নবান্নে কেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি বৈঠকটি সারলেন না৷ বিজেপি নেতাদের কেন লালবাজারে ডেকে পাঠানো হল৷ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ওই বৈঠক নবান্নে কেন করল না রাজ্য প্রশাসন?

অনেকের মতে, নবান্নে মুকুল রায়কে সহ্য করতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসেন মুকুল৷ দল ছাড়ার পর খেকেই তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ‘গদ্দার’ বলে থাকে৷ নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীও তার দিকে একই ইঙ্গিত করেছেন৷ দিন কয়েক আগে প্রশাসনের সদর দপ্তরে মুকুলের সদর্পে প্রবেশকে ভালো চোখে দেখেনি তৃণমূল৷ এরপরই জানিয়ে দেওয়া হয় ফৌজদারি মামলা রয়েছে মুকুলের বিরুদ্ধে৷ রাজ্য সরকার তার সঙ্গে কথা বলবে না৷ পরে অবশ্য আদালত না হস্তক্ষেপ করলে মুকুলকে বাদ দিয়েই আসতে হত বিজেপিকে৷ মুকুলের জন্য নবান্নের দরজা বন্ধ করতেই কী লালবাজারে আসতে হল মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-কে ৷ বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে৷

1 COMMENT

Comments are closed.