জালালাবাদ বিস্ফোরণ: ISI-র মদতেই শিখ-হিন্দুদের টার্গেট

জালালাবাদ: শিখ-হিন্দুদের টার্গেট করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI৷ জালালাবাদ বিস্ফোরণে ১৯ জনের মৃত্যু সেই অনুমানকে আরও গাঢ় করছে৷ আফগানিস্তান সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার দাবি, রবিবার জালালাবাদে হিন্দু-শিখদের টার্গেট করে ঘটা আত্মঘাতী বিস্ফোরণে সরাসরি মদত করছে ISI৷ হামলার দায় তালিবান স্বীকার করলেও ISI-র যোগ স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে৷

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে তাড়াতে তৎপর ISI৷ তাই জালালাবদের শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত এলাকা খতিয়ে দেখেই সেখানে বিস্ফোরণের মদত দিচ্ছে পাক গুপ্তচর সংস্থা৷ পাশপাশি উঠে আসছে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য৷ বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিখ প্রার্থী অবতার শিং খালসা৷ আফগানিস্তানের আসন্ন নির্বাচনে শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী খালসা৷ প্রার্থী হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রাননাশের হুনকি পাচ্ছিলেন খালসা৷ ভোট প্রার্থী খালসাকে টার্গেট করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়৷ গোটা বিষয়টির নজরদারিতে ছিল ISI৷ খালসা ছাড়াও বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে শিখ সমাজকর্মী রাভালি সিং,শিখ কমিটির মুখপাত্র ইকবাল সিং ও সমাজকর্মী অনুপ সিংয়ের৷

বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ শিখ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷ তবে, গোটা বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজে হস্তক্ষেপ চাইছেন দিল্লি শিখ গুরুদ্বার কমিটির প্রেসিডেন্ট মনজিৎ সিং জিকে৷ ট্যুইট করে তিনি জানান, শিখ সম্প্রদায় আফগানিস্তানে সুরক্ষিত নয়৷ শিখ নেতাদের উপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না৷

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে সরব হোক বিদেশমন্ত্রী৷ আফগানিস্তানে শিখ সাংবাদিক পারভিজ কাওয়া জানাচ্ছেন, জালালাবাদের নাঙ্গারহারে বিস্ফোরণ হয়৷ শিখ অধ্যুষিত নাঙ্গারহারে আবতার সিং সহ মোট ১০ শিখের মৃত্যু হয়েছে৷ গোটা ঘটনায় শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায় আতঙ্কিত৷ বিষয়টি দেখুক মোদী সরকার৷ নিহত শিখ -হিন্দুদের আত্মীয় যারা দিল্লিতে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে সোমবার দেখা করবেন সুষমা স্বরাজ৷ ট্যুইটারে ঘটনার নিন্দা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার আশ্বাস দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী৷

রবিবার জালালাবাদ সফরে এসেছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি৷ আফগান সংবাদ সূত্রে খবর, অবতার সিং সহ শিখ-হিন্দুদের দল ঘানির সঙ্গেই দেখা করতে আসছিলেন৷ জালালাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ারও কথা ছিল ঘানির৷ তার আগেই বিস্ফোরণ৷ জালালাবাদের গর্ভনরের বাসভবনে ওঠেন প্রেসিডেন্ট৷ সেখানেই শিখ-হিন্দু ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক ঠিক হয়৷ জালালাবাদের সংখ্যালঘু এলাকা পরিদর্শনের কথা ছিল ঘানির৷

আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিখ ও হিন্দুদের অবস্থা শোচনীয়৷ দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের টার্গেট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ আর তলিবানকে সবরকমের সাহায্য করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা৷ পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে,গোটা আফগানিস্তানে শিখ-হিন্দুদের সংখ্যা কমে হাজারে ঠেকেছে৷ প্রতিদিন মৃত্যু ভয় গ্রাস করে আফগানিস্তানর শিখ-হিন্দুদের৷ এবার বাকি শিখ হিন্দুদেরও ভারতে ফেরানোর আর্জি জানাচ্ছে ভারতের বিভিন্ন শিখ সংগঠন ও তাদের পরিবার৷

Advertisement ---
---
-----