রক্তাক্ত রবিবার: পরপর রকেট হামলায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

রামাল্লা ও জেরুজালেম: ইজরায়েলি সেনার গুলিতে ফিলিস্তিনি মহিলা চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যুর পর থেকে উত্তপ্ত গাজা ভূখণ্ড৷ রবিবার গাজার দিক থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে ইজরায়েলের দিকে৷ এই রকেট হামলার দায় কেউ নেয়নি৷ মনে করা হচ্ছে সশস্ত্র ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই হামলা চালায়৷

এএফসি সংবাদ সংস্থার খবর, ক্ষুব্ধ ইজরায়েল পরপর রকেট হামলা চালাতে শুরু করল৷ ইজরায়েলি সেনার দাবি, গাজা থেকে উড়ে আসা রকেট বিস্ফোরণের আগেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে৷ ফলে রবিবার সকাল থেকেই নতুন করে সংঘর্ষে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হল৷

বিবিসি জানাচ্ছে, মাস দুয়েক ধরা চলা টানা বিক্ষোভে রক্তাক্ত গাজা সীমান্ত এলাকা৷ ইজরায়েলি সেনার গুলিতে অন্তত ১২৩ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে৷

- Advertisement -

অভিযোগ, শনিবার সংঘর্ষ চলাকালীন যুদ্ধ নিয়মের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাকর্মী রাজনকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে ইজরায়েলি সেনা৷ ঘটনার সময় রাজন সাদা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন৷ এটি তাঁর চিকিৎসক কর্মী হিসেবে পরিচয় তৈরি করছিল৷ এর পরেও কেন রাজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল তার জবাব দেয়নি ইজরায়েল সরকার৷

এপি, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, শুধু গাজা নয় প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের এলাকা ও ওয়েস্ট ব্যাংকেও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে৷ তাদের রুখতে প্রস্তুত ইজরায়েলি সেনা-পুলিশ৷

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার৷ ইজরায়েলি সেনার গুলিতে মৃত্যু হয় গাজার বাসিন্দা ফিলিস্তিনি মহিলা চিকিৎসক রাজন আল নাজ্জারের৷ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আরব ভূমিতে৷ ২১ বছর বয়সী রাজন ছিলেন অবরুদ্ধ গাজা শহরের অন্যতম চিকিৎসাকর্মী৷ ইজরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে সামনে থেকেই আন্দোলন করতেন৷ পাশাপাশি সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা করতেন৷ তাঁর মৃত্যুর পরই ফুঁসছেন গাজাবাসী৷ রবিবার রীতি অনুযায়ী রাজনকে সমাধিস্থ করা হয়৷ হাজারে হাজারে ফিলিস্তিনি ছিলেন শেষযাত্রায়৷

রাষ্ট্রসংঘের তরফে ইজরায়েলের অবস্থানের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অগণিত ইহুদিকে খুন করে নাৎসি জার্মান সরকার৷ যুদ্ধ শেষে ১৯৪৮ সালে আরব ভূমিতে ইহুদিদের জন্য ইজরায়েল রাষ্ট্র তৈরি করা হয়৷ এর পর থেকেই আরব-ইহুদি দ্বন্দ্বে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে এলাকা৷ লক্ষ-লক্ষ ফিলিস্তিনি-আরব শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে চলে গিয়েছেন৷ গাজা শহর তেমনই শরণার্থী কবলিত এলাকা৷ নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার চেয়ে গত ৩০ মার্চ থেকে গ্রেট মার্চ ফর রিটার্ন আন্দোলন শুরু হয়েছে৷

Advertisement ---
---
-----