বেঙ্গালুরু: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ২০২২-এ মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। কিন্তু ইসরো বলছে, তার আগেই পাঠানো হবে ভারতীয় মহাকাশচারী। বুধবার এমনটাই বললেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবান। ২০১২-এর ডিসেম্বরেই টার্গেট সেট করা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

এদিন তিনি বলেন, ‘২০১২-এর ডিসেম্বরেই HSP বা হিউম্যান স্পেসফ্লাইট প্রোগ্রাম লঞ্চ করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ডেডলাইনের সঙ্গে কিছুটা ফারাক রাখতে চাইছেন ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা, যাতে কোনও সমস্যা হলেও ২০২২-এর মধ্যেই মহাকাশে পৌঁছনো যায়। কে শিবান আরও জানান, মূল অভিযানের আগে ২০২০ ও ২০২১-এ দুটি আনম্যান্ড মিশন হবে ইসরোর।

তবে কতজন মহাকাশচারী যাচ্ছেন বা কতদিনের হবে সেই অভিযান, সেব্যাপারে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি ইসরোর তরফে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের মহাকাশযানের তিনজনকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ও সাতদিন তারা থাকতে পারবে।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ২০২২ সালে কোনও ভারতীয় পুরুষ বা মহিলা ‘গগনযান’-এ মহাকাশে পাড়ি দেবেন। ভারতের জাতীয় পতাকা মহাকাশে উড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাশিয়া, আমেরিকা ও চিনের পর ভারত চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে চাইছে। তবে, মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মহাকাশচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করলেই মহাকাশযানগুলি বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে প্রবল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই তাপকে সহ্য করার মতো প্রযুক্তি তৈরিই মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০০৭ সালেই ভারত ‘রি-এন্ট্রি’ প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষাটি করেছিল। ৫৫০ কেজি ওজনের একটি উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠিয়ে ১২ দিন পর আবার তাকে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এই বাধা টপকানোর পরই দ্রুত এগিয়েছে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর কাজ।

----
--