বনধের দিনে ভোরবেলাই শুরু সরকারী চাকুরেদের অফিস টাইম

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বনধ, তবু সোমবার সকালটা সরকারি-বাবুদের ভালো যাবে না। অফিস যেতে হবেই। আর তাই বাক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়তে হবে ভোরবেলাই। অন্তত অফিস থেকে যাদের বাড়ি দূরে অন্য দিনের তুলনায় তারা সোমবার ঘণ্টা দুয়েক আগেই বেরোবেন। এমনটা জানাচ্ছেন সরকারী কর্মচারীরা নিজেই।

আগে কথায় কথায় ভারত বনধ, বাংলা বনধ লেগেই থাকত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেত্রী থাকার সময় বহু কর্মনাশা বাংলা বনধের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে সবের পাট চুকিয়ে দিয়েছেন তিনি। বাড়তি বাস দিয়ে, মাইনে কাটার নির্দেশ দিয়ে যে কোনও মূল্যে বনধের দিনে অফিসে আসা জরুরি সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাই বনধের দিন বাড়িতে বসে চায়ের আড্ডা,দুপুরের ভাত ঘুম, সন্ধ্যের চপ মুড়ি এসবের পাট চুকে গিয়েছে।

- Advertisement -

২০১১-র পর থেকে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর যারা অফিস থেকে অনেক দূরে থাকতেন তারা অনেকেই সপ্তাহের মাঝের কর্মনাশা দিনের ঝক্কি সরাতে থেকে যেতেন অফিসে। তারপর বনধের আগের দিন অফিস শেষ হওয়ার পর শুরু হয়ে যেত ‘গ্র্যান্ড মস্তি’। খাওয়া দাওয়া, রাত জেগে তাস, গপ্পের ঝুড়ি সেরে নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় ঘুম থেকে উঠে তারপর কাজ শুরু করে দেওয়া। কিন্তু এবারের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সোমবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস৷ এই বনধের সমর্থন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ এদিকে কয়েকটি বামপন্থী দল ও সিপিএম একইসঙ্গে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনেরও ডাক দিয়েছে৷ সবমিলে বিরোধীদের চাক্কা জ্যামে বিপর্যস্ত হতে পারে জনজীবন৷ আগের দিন রবিবার। হোমসিক বাঙালি। আবার রবিবারের ভাত মাংসের লোভ। উপায় বাড়িতেই থেকে যাওয়া। কিন্তু পরের দিন শরীরে রবিবারের ছুটির হাজারও ল্যাদ নিয়েও বেরোতে হবে ভোর বেলা। চিত্রটা অনেকটা গ্রামে ভোরবেলা লোটা কম্বল নিয়ে রেললাইনে পাড়ে যাওয়ার মতো। সকাল বেলা ব্যাগ, জল, খাবার নিয়ে বেড়িয়ে পড়।

রাজ্য সরকারীকর্মী সুমিত রায় বলেন, “আমরা ট্রেনে যাতায়াত করি। তবুও ২০১২ সালে একটা বনধে আমরা অনেকেই বাড়ি না গিয়ে থেকে গিয়েছিলাম। তবে এবার সেটা করা যাবে না। রবিবার বাড়িতে থাকাটাই সবাই প্রেফার করে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যমগ্রামের এক সরকারী কর্মী বলেন, “বনধ মঙ্গলবার হলেও অফিসে থেকে যেতাম। রবিবার বাড়িতে থাকার একটা ব্যপার আছে। উপায় নেই। অন্যদিন সাড়ে সাতটায় অফিসের জন্য বাড়ি থেকে বেরোই। কাল সাড়ে চারটে পাঁচটাতেই বেড়িয়ে পড়তে হবে। না হলে চাপ হবে।” হাওড়ার বাসিন্দা সৌম্য দাসও রাজ্যসরকারী কর্মী।

তিনি বলেন, “আমার বাড়ি থেকে রেল স্টেশন থেকে কাছে। তারপর নেমেই অফিস। আমার চাপ নেই। তবে যারা দূরে থাকেন তারাও এবার থাকছেন না বলেই জানি। আসলে রবিবারতো। তাহলে শনিবার অফিস করে থেকে যেতে হতো। একদিন অফিসে থাকা যায়। দু দিন ধরে সম্ভব নয়। অনেকেরই টার্গেট ৯টায় অফিসে ঢুকে যাওয়া।” শুধু রাজ্যসরকারী কর্মী নয়। কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও এবার বিষয়টা একইরকম। কারন এখানেও মাইনে কাটা যাওয়ার বিষয় রয়েছে। সৌরভ মুখোপাধ্যায় পোষ্ট অফিসে চাকুরি করেন। তিনিও জানালেন, রবিবার বনধ হওয়ার জন্য এবারে কেউ অফিসে থাকছে না।

Advertisement
---