সন্ত্রাস বিধ্বস্ত জেলায় প্রাণ ফেরাচ্ছে নতুন স্কুল

শ্রীনগর: প্রায় প্রতিদিন গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে এখানকার শিশুদের৷ প্রায় প্রতিদিন মর্টারের হানায় ভেঙে পড়ে তাদের রোজকার জীবনের পরিচিত ছবি৷ প্রায় প্রতিদিন ভারি বুটের শব্দেই ঘুমোতে যায় তারা৷ এভাবেই জম্মু কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুর শৈশব কেটে যায় সন্ত্রাস বিধ্বস্ত হয়েই৷

না পাওয়াটাই যেখানে পরিচিত শব্দ, সেখানে অযাচিত উপহারে জীবন সম্পর্কে ধারণা বদলায় বই কি! যেমন ধারণা বদলাচ্ছে তাদের স্কুলকে ঘিরে৷ রাজৌরির প্রত্যন্ত গ্রামে পড়াশুনা করা যাবে, এই বিশ্বাসটা প্রায় হারাতে বসেছিল সেখানকার পড়ুয়ারা৷ কিন্তু বিশ্বাসটা ফিরল ধীরে ধীরে৷

পড়ুন: চার বারের ব্যর্থতা কাটিয়ে সাফল্যের সিঁড়িতে এই আইপিএস

- Advertisement -

গ্রামের মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন স্কুল বাড়ি৷ হোক ছোট৷ তবু মাথার ওপর একটা ছাদ রেখে পড়াশোনা তো করা যাবে৷ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজৌরি জেলায় গড়ে উঠেছে দুটি সরকারি স্কুল ভবন৷ তবে প্রশাসন এখানেই থেমে থাকতে চাইছে না৷ গোটা জেলায় এরকম আরও ১০০টা স্কুল তৈরির করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের৷ যার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে৷

এর আগে, রাজৌরি জেলায় সরকারি স্কুল আগে থাকলেও সেই পরিকাঠামো ছিল না৷ নিয়ে আসা হয়েছে ব্ল্যাক বোর্ড, আধুনিক শৌচাগার, বিদ্যুৎ পরিষেবা৷ এক শিক্ষিকা জানালেন নতুন স্কুল ভবন তৈরি হওয়ার পরে ছাত্রদের সংখ্যাও বেড়েছে৷ পড়াশোনায় উৎসাহ বেড়েছে এলাকার পড়ুয়াদের৷

পড়ুন: ৬০ শতাংশ শিশু নির্যাতন হয় স্কুলেই: দিল্লি পুলিশ

তিনি আরও জানান এর আগে, ঠিক ঠাক ক্লাসরুমও ছিল না পড়ানোর জন্য৷ অনেক সময় গাছের তলায় বসে পড়াতো হত৷ সমস্যা হত বর্ষাকালে৷ পড়ুয়াদের সংখ্যা কমে যেত৷ শুধু মাত্র যাতায়াতের অসুবিধাই নয়, স্কুলে বসে পড়তেও সমস্যা হত৷

উৎসাহিত পড়ুয়ারা, উচ্ছ্বসিতও৷ নতুন স্কুলের সাথে সাথে তাদের প্রাপ্তি নতুন বই, পেন্সিল, খাতা, পেন ও অন্যান্য পড়ার সামগ্রী৷ তাও বিনামূল্যে পাচ্ছে তারা৷ গতবছরই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি রাজৌরি জেলায় ১০০টি নতুন স্কুল তৈরি করার কথা জানিয়ে ছিলেন৷ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই জেলাপ্রশাসন কাজ শুরু করে৷

Advertisement
---