যাদবপুরে পরীক্ষা পিছতে পারে বলে আশঙ্কা অধ্যাপকদের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নির্দিষ্ট সময়ের থেকে দু’ সপ্তাহ দেরিতে শুরু হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটিজ ফ্যাকাল্টির (আর্টস ফ্যাকাল্টি) ছয়টি বিভাগের ক্লাস৷ তার প্রভাব প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা যাদবপুরের অধ্যাপক মহলের৷ তাঁদের মতে, সেমিস্টার ব্যবস্থায় এক সপ্তাহ দেরি হওয়া মানেই অনেক৷ সেখানে ক্লাস শুরু হতে প্রায় দু’ সপ্তাহ দেরি হওয়ার কারণে পরীক্ষা সপ্তাহখানেকের মতো পিছিয়ে যেতে পারে৷

সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে শুরু করে ক্লাস বয়কট, অনশন সব পন্থাই অবলম্বন করেছে যাদবপুরের ছাত্রমহল৷ তার ইতিবাচক ফলাফলও পেয়েছেন তাঁরা৷ আর এই আন্দোলনের মধ্যেই দেখা গিয়েছে কর্তৃপক্ষের একাধিকবার ভোলবদলের চিত্র৷ কখনও প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত, আবার কখনও প্রবেশিকা পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ৫০: ৫০ অনুপাতে ভরতির সিদ্ধান্ত৷ তার পর আবার প্রবেশিকা পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত৷ সবশেষে ফের প্রবেশিকা পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ৫০: ৫০ অনুপাতে ভরতির সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত বদলের খেলার প্রথম দিকে বার বার দাবি করা হয়েছিল, যাই হোক না কেন ক্লাস ঠিক সময়ে শুরু হবে৷ ঠিক সময় অর্থাৎ, ১ আগস্ট অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে বাংলা, ইংরাজি, তুলনামূলক সাহিত্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইতিহাস ও দর্শনশাস্ত্র বিভাগের ক্লাসও শুরু হয়ে যাবে৷ কিন্তু, বার বার সিদ্ধান্ত বদলের প্রভাব পড়ে এই দাবিতেও৷ ১০ জুলাইয়ের কর্মসমিতির বৈঠকে প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর দেখা যায় ক্লাস শুরু হওয়ার নির্ঘণ্টেও পরিবর্তন এসেছে৷ নির্দিষ্ট সময়ের দু’সপ্তাহ পরে ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে হিউম্যানিটিজ ফ্যাকাল্টির এই ছয়টি বিভাগের ক্লাস৷

- Advertisement -

স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে এই দেরির প্রভাব কী শিক্ষাবর্ষের উপর পড়বে না? যাদবপুরের অধ্যাপক সংগঠন জুটার সহ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘‘প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে দু’সপ্তাহের একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে ক্লাস শুরুর ক্ষেত্রে৷ আর সেমিস্টার ব্যবস্থায় এক সপ্তাহ দেরি মানেই অনেক৷ আমার মনে হয়, এই কারণে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা ১ সপ্তাহের মতো পিছাতে পারে৷’’ যদিও এ বিষয়ে অন্য দাবি আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন শুভাশিস বিশ্বাসের৷ তাঁর দাবি, ‘‘পরীক্ষা বা ফলাফল প্রকাশ কোনও কিছুই পিছাবে না৷ সব নির্দিষ্ট সময়েই হবে৷’’

তবে, পরীক্ষা না পিছানোর দাবি করলেও দেরিতে ক্লাস শুরু হওয়ার প্রভাব শিক্ষায় পড়লে তার সমাধানের পথও বাতলেছেন শুভাশিসবাবু৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পুজোয় টানা ছুটি থাকে না৷ দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজোর মাঝের সময়টায় ক্লাস হয়৷ আর আমাদের শনিবার করে ক্লাস হয় না৷ কিন্তু যদি কোনও বিভাগে সমস্যা হয়, তাহলে তারা শনিবার করেও ক্লাস চালু রাখতে পারে৷’’ তবে, এই প্রভাব পড়বে না বলেই আশা করছেন শুভাশিসবাবু৷ তাঁর মতে, ‘‘এই দেরিটা যদি আরও হত, তাহলে অবশ্যই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল৷’’

শিক্ষার উপর কোনও প্রভাব পড়লে অধ্যাপক-অধ্যাপিকারাও এগিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন পার্থপ্রতিম রায়৷ তিনি বলেন, ‘‘কোনও সমস্যার উদ্রেক হলে আমরা অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তার সমাধান করার চেষ্টা করব৷ আমরা সব সময়ই নজর রাখি ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়৷ তাই আমরা চেষ্টা করি অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তাঁদের পড়াশোনার ঘাটতি পূরণ করার৷ এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে তাই করা হবে৷’’

Advertisement ---
-----