স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভরতি প্রক্রিয়া নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে জট৷ সেই কারণে থমকে গিয়েছে ইতিহাস বিভাগের ভরতি প্রক্রিয়া৷ অভিযোগ উঠেছিল হিউম্যানিটিজের বাকি পাঁচটি বিভাগের মেধাতালিকাকে ঘিরেও৷ সেই জট কাটাতে এবার ভরতি প্রক্রিয়ার আসরে নামলেন খোদ উপাচার্য সুরঞ্জন দাস৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভরতি প্রক্রিয়ার বাকি কাজগুলির উপাচার্য নিজে দেখবেন৷ আর আমি সেই কা জে ওনাকে সাহায্য করব৷’’

বহু জট কাটিয়ে এই বছর যাদবপুরের হিউম্যানিটিজের ছয়টি বিষয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়৷ কিন্তু, তার পর মেধাতালিকা প্রকাশের পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়৷ ইংরাজির মেধাতালিকায় এক ছাত্রীর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের থেকে কম নম্বরের উল্লেখ ছিল মেধাতালিকায়৷ সমস্যা দেখা দেয় ইতিহাসের মেধাতালিকা নিয়েও৷ দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৫ শতাংশের মতো নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারা প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১০-এরও কম নম্বর পেয়েছেন৷ ২১৬ জনের মেধাতালিকায় ১২০ জন এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন৷ এই বিষয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে৷ আলোচনা করতে বুধবার অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠক হয়৷ সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইতিহাসের প্রবেশিকা পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ণ করা হবে৷

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বুধবার মাঝরাতে উপাচার্য ও সহ উপাচার্য প্রদীপ কুমার ঘোষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন যাদবপুরের পড়ুয়ারা৷ টানা প্রায় ১০ ঘন্টা ঘেরাওয়ের পর ভরতি প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ডিন অফ আর্টস শুভাশিস বিশ্বাস পদত্যাগ করার পর বিক্ষোভ তুলে নেয় পড়ুয়ারা৷ ডিন পদ ও ইতিহাসের বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি৷ পাশাপাশি, ইতিহাসের মেধাতালিকায় যে ভুল হয়েছে তার দায়ও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন শুভাশিস বিশ্বাস৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার দায়িত্ব সামলাতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে আমি পদত্যাগ করেছি৷ ইতিহাস নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটা তো আমারই দায়৷ তাই আমি পদত্যাগ করেছি৷’’

ডিন ও বিভাগীয় প্রধান পদে পদত্যাগের পাশাপাশি অ্যাডমিশন কমিটির দায়িত্বেও শুভাশিস বিশ্বাস আর থাকছেন না বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য৷ আর ইতিহাসের মেধাতালিকাকে ঘিরে যে জট তৈরি হয়েছে তা কাটাতে বুধবারই প্রবেশিকা পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুনরায় মূল্যায়নের পর ইতিহাসের নতুন মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে৷ মেধাতালিকা প্রকাশের পর ফের চালু করা হবে ইতিহাস বিভাগের ভরতি প্রক্রিয়া৷ তবে, ঠিক কবে এই মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে সেই দিন এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলেই জানাচ্ছেন রেজিস্ট্রার৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব এই গোটা ভরতি প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ করা৷

অন্যদিকে, বাকি পাঁচটি বিভাগের ‘ট্যাবুলেশন’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বুধবারের কর্মসমিতির সিদ্ধান্তে৷ রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ট্যাবুলেশন করা হয়ে গিয়েছে৷ সব ঠিকই আছে৷ তাই পূর্ব নির্ধারিত নির্ঘন্ট অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভরতি প্রক্রিয়া চলবে এই পাঁচটি বিভাগের৷

কর্তৃপক্ষের প্রবেশিকা পরীক্ষা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়৷ পরে আন্দোলনের রূপ পরিবর্তন হয়ে অনশন কর্মসূচিতে পরিণত হয়৷ অবশেষে চতুর্থ ও শেষবার প্রবেশিকা পরীক্ষা ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ৫০: ৫০ অনুপাতে ভরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্মসমিতি৷ সেই অনুযায়ী, প্রবেশিকা পরীক্ষা হয় বাংলা, ইংরাজি, তুলনামূলক সাহিত্য, দর্শনশাস্ত্র, ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে৷

প্রতীকি ছবি

কিন্তু, প্রবেশিকার পর প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই ফের মাথাচাড়া দেয় বিতর্ক৷ দেখা যায়, মেধাতালিকা প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর দেওয়া থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের কোনও উল্লেখ নেয়৷ অভিযোগ পেতেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফের মেধাতালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ পুনরায় প্রকাশিত মেধাতালিকায় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর ও এই দুইয়ের ৫০:৫০ অনুপাতে প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন তারও উল্লেখ করা হয়৷

কিন্তু, সেই তালিকা প্রকাশের পর এক ছাত্রী রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিকে ইংরাজিতে যে নম্বর পেয়েছিলেন মেধাতালিকায় তার থেকে কম নম্বরের উল্লেখ রয়েছে৷ এই ভুলের কারণে মেধাতালিকায় ৬০-র জায়গায় তার ব়্যাঙ্ক হয় ১১০৷ তার পরই সামনে আসে ইতিহাস বিভাগের মেধাতালিকার জটিলতা৷

অন্যদিকে, যাদবপুরের ভরতি প্রক্রিয়ার জট নিয়ে এদিন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেছেন, ‘‘প্রবেশিকা পরীক্ষা হওয়ার পর এখন যে ফলাফল বের হয়েছে তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, খাতা ঠিক করে মূল্যায়ণ করা হয়েছে তো?’’ তার পর ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, ‘‘যে পড়ুয়ারা আন্দোলন করেছিলেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, এবার কী হবে? এইভাবে হয় নাকি?’’ যদিও তাঁর সাফ কথা, ‘‘প্রবেশিকার খাতা ঠিক করে মূল্যায়ণ করা হচ্ছে না৷’’

----
--