একঘরে হয়ে পদত্যাগ করতে চাইছেন যাদবপুরের উপাচার্য

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এভাবে কাজ চালানো সম্ভব নয়৷ রাজ্যপালের কাছে অব্যহতি চাইব৷ মঙ্গলবার কর্মসমিতির বৈঠকে প্রবেশিকা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর এমনই মন্তব্য করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ৷ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের আর্জি জানাবেন৷ তাঁর সঙ্গে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগের আর্জি জানাবেন সহ-উপাচার্য প্রদীপ কুমার ঘোষও৷

এই বছর প্রবেশিকা পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই একের পর এক সমস্যা ও বিতর্কের উদ্ভব হয়৷ প্রথমে আর্টস ফ্যাকাল্টির ছয়টি বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে৷ ১৪ জুন আইনি জটিলতার কারণে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ তখন থেকেই সূত্রপাত হয় বিতর্কের৷ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন পড়ুয়ারা৷ প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা৷ তাঁদের বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে পড়েন উপাচার্য, সহ উপাচার্য, কর্মসমিতির সদস্যরা৷

আরও পড়ুন: Breaking: বেলুড়মঠে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত

- Advertisement -

তাঁদের আন্দোলনের জেরে কর্মসমিতির বৈঠক ডেকে ২৭ জুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ছয়টি বিভাগেই প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে৷ উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমতুল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ৫০:৫০ অনুপাতে নিয়ে স্নাতক কোর্সে ভরতির মেধাতালিকা তৈরি করা হবে৷ ভরতি প্রক্রিয়ার যাবতীয় দায়িত্বে থাকবে অ্যাডমিশন কমিটি৷

ওইদিন কর্মসমিতির প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট পড়ুয়ারা আন্দোলন থামিয়ে দেয়৷ কিন্তু, ওইদিন কর্মসমিতির নেওয়া আর একটি সিদ্ধান্তের ফলে ফের মাথাচাড়া দেয় প্রবেশিকা বিতর্ক৷ ভরতি প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী অধ্যাপকদের কোনও ভূমিকা থাকবে না৷ বাইরের অধ্যাপকদের দিয়ে প্রবেশিকার খাতা দেখানো হবে৷ কর্মসমিতির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয় যাদবপুরের অধ্যাপক সংগঠন জুটা ও পড়ুয়ারা৷ ফের অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা৷ তারপর, ৪ জুলাই কর্মসমিতির বৈঠক করে এই বছর প্রবেশিকা পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷

আরও পড়ুন: দূষণজনিত ছাড়পত্র ছা্ড়া গাড়ির বিমা হবে না

প্রবেশিকা পরীক্ষা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়া থেকে অধ্যাপক সকলেই৷ জোরদার হয় তাঁদের আন্দোলন৷ আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়৷ একে একে ভরতি প্রক্রিয়া বয়কট করে গোটা কলা বিভাগ৷ এমনকী, উপাচার্যকে ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ করে পড়ুয়ারা৷ ঘেরাও থেকে মুক্তি পেয়ে পরের দিন প্রথমে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে ও পরে আচার্যের সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য৷

তখনই জানা গিয়েছিল, পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য৷ তারপর থেকে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে৷ আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ বাড়াতে আর এক ধাপ এগিয়ে যান আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা৷ তখন প্রবেশিকা ফিরিয়ে আনার দাবি-সহ আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ২০জন পড়ুয়া অনশনে বসেন৷ সোমবার রাজ্যপাল প্রবেশিকা সমস্যার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ছেড়ে দেন৷ সেই অনুযায়ী, মঙ্গলবার জরুরী কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়৷

আরও পড়ুন: কলেজে ভর্তি হতে না পেরে জিটি রোড অবরোধ

এদিন কর্মসমিতির দুটি বৈঠক করা হয়৷ টানা প্রায় ৪ ঘণ্টার এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার৷ আর ভরতি প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ও ডিন অফ আর্টস শুভাশিস বিশ্বাসকে৷ কিন্তু, এইদিন কর্মসমিতির নেওয়া রেজিলিউশনে সহমত পোষণ করেননি উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ ও সহ উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষ৷ উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ বলেন, ‘‘যে রেজিলিউশন নেওয়া হয়েছে হয়েছে তাতে আমি ও সহ উপাচার্য সহমত প্রকাশ করিনি৷ কারণ, মাননীয় রাজ্যপালের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী যে বক্তব্য রেখেছেন, আইনসঙ্গতভাবে সেই বক্তব্যতে আমাদের সহমত হতেই হবে৷ কিন্তু, আমরা সেটাতে সহমত দিইনি৷’’

উপাচার্য জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির পরামর্শ মেনেই এদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তাই রাজ্যপালকে এই দিনের রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ কিন্তু, যেহেতু তাঁরা রেজিলিউশনে সহমত পোষণ করেননি, তাই রাজ্যপালের কাছে অব্যাহতি চাইবেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন: গিরিশ পার্ক থানায় অভিযোগ নওয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে

সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘যেহেতু আমরা অপারগ তাই আমরা অব্যহতি চাইব৷’’ পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘‘যেহেতু, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে৷ তাই আমি ও সহ-উপাচার্য দু’জনেই মাননীয় আচার্যের কাছে অব্যাহতি চাইব৷’’ জানা গিয়েছে, আগামীকালই রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়ে অব্যহতি চাইবেন তাঁরা৷ এদিনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন কর্মসমিতিতে উচ্চ শিক্ষা সংসদের মনোনীত তথা ইংরেজির অধ্যাপক ডঃ মনোজিৎ মণ্ডল৷

Advertisement
---