বিজ্ঞান পড়ুয়াদের প্রতিভা খুঁজে বৃত্তি দেবে এই স্বশাসিত সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজ্ঞান শাখার কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় উৎসাহ দিতে ও আর্থিকভাবে সাহায্য করতে বহু বছর ধরেই বৃত্তি দিয়ে আসছে জগদীশ বোস জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিভা সন্ধান (জেবিএনএসটিএস)৷ প্রথমে একটি মাত্র বৃত্তি প্রোগ্রাম দিয়ে পথচলা শুরু হলেও, গত কয়েকবছরে যুক্ত করা হয়েছে আরও দু’টি প্রোগ্রাম৷ এই বছরও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ কৃতী পড়ুয়াদের এই বৃত্তি প্রোগ্রামগুলির জন্য আবেদন জানাতে বলা হয়েছে স্বশাসিত সংস্থা জেবিএনএসটিএস-এর পক্ষ থেকে৷

১৯৬০ সালে ‘সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টে’র মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে জগদীশ বোস জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিভা সন্ধানের পথচলা৷ যে প্রোগ্রামের অধীনে বৃত্তি দেওয়া হয় শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী পড়ুয়াদের জন্য৷ তারপর শুরু হয় ‘জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টে’র৷ এই বৃত্তি প্রোগ্রামটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের জন্য চালু করা হয় ২০১৪ সালে৷ তবে শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক নয়৷ সাম্প্রতিকালে ছাত্রীদের জন্যও চালু করা হয়েছে একটি বৃত্তি প্রোগ্রাম৷ ২০১৭-তে চালু ‘বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’ নামের এই প্রোগ্রামটির জন্য ছাত্রীদের বেছে নেওয়া হয় ‘সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টে’র মাধ্যমে৷

এই বছর তিনটি বৃত্তি প্রোগ্রামের নির্বাচন পরীক্ষা হতে চলেছে আগামী ১৯ অগস্ট৷ অবশ্য তার আগেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আবেদন করতে হবে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের৷ যে সকল পড়ুয়া আগামী দিনে বিজ্ঞান নিয়ে পড়বেন, শুধুমাত্র তারাই এই বিশেষ সুযোগটি উপভোগ করতে পারবেন৷

- Advertisement -

সব থেকে পুরোনো প্রোগ্রাম ‘সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টে’র জন্য আবেদন করতে পারবেন এই বছর বিজ্ঞান শাখায় উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা৷ যাঁরা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বেসিক সায়েন্স অনার্স, মেডিসিন বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়বেন৷ যাঁরা ২০১৮ সালের আগে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁরা এই প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য নন৷ প্রথমে একটি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে বৃত্তি প্রার্থীদের৷ তারপর একটি সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে হবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের৷ সাক্ষাৎকারে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের সায়েন্টিফিক ক্রিয়েটিভিটি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হবে৷ এই তিনটি স্তরে উত্তীর্ণদেরই বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হবে৷ একই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন ‘বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’র স্কলাররাও৷

‘জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্ট টেস্টে’র ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি একটু আলাদা৷ ২০১৮ সালে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখা নিয়ে পড়াশোনা করবে৷ শুধুমাত্র তারাই এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে৷ বিজ্ঞান শাখায় তাদের পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, অংক, বায়োলজি, স্যাটিস্টিকস, ইলেকট্রনিকস কম্পিউটার সায়েন্সের মধ্যে ন্যূনতম তিনটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে৷ প্রথমে লিখিত পরীক্ষা ও তারপর সাক্ষাৎকারের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হবে বৃত্তি প্রাপকদের৷

‘সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টে’র মাধ্যমে নির্বাচিত স্কলারদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে দেওয়া হবে৷ বই কেনার জন্য বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে৷ এই অর্থ কোর্স অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হবে৷ তবে, যে সকল স্কলাররা ডিএসটি-ইন্সপায়ার বৃত্তির আওতায় আসবেন তাদের প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে৷ এই প্রোগ্রামের জন্য একটি নতুন আকর্ষণ হল, প্রথম ১০ জন ছাত্র ও ছাত্রীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হবে৷

‘জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্ট টেস্টে’র মাধ্যমে নির্বাচিত স্কলারদের প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে ২ বছরের জন্য৷ এ ছাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে৷ ‘বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’র জন্য নির্বাচিতদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে চার অথবা পাঁচ বছরের জন্য৷ এ ছাড়া, বই কেনার অনুদান হিসাবে বার্ষিক ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে৷

১৯ অগস্ট সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্ট’ ও ‘বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’র লিখিত পরীক্ষা হবে৷ একই দিনে দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১ টা পর্যন্ত হবে ‘জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্ট’৷ এই পরীক্ষাগুলিতে অংশগ্রহণ করার জন্য অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করতে পারবে পড়ুয়ারা৷ আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ জুলাই৷ জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে এই বৃত্তি প্রোগ্রামগুলি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে৷

Advertisement ---
---
-----