জাকিরের আর্থিক জালিয়াতি ফাঁস করল ইডি

নয়াদিল্লি: ফের বিপাকে বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েক। এবার জাকিরের পরিবারের হাতে থাকা বিপুল টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একই সঙ্গে জাকিরের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন চালানোর পদ্ধতিও ফাঁস করল ইডি।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বিবৃতি জারি করে ফাঁস করা হয়েছে মৌলবাদী জাকিরের কুকীর্তির কাহিনী। সেখানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কাহিনী। আর্থিক জালিয়াতি করে জাকির নায়েক বিপুল সম্পত্তির মাইক হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইডি। যদিও সবই ছিল বেনামে।

বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, অর্থের উৎস ও সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মালিকের পরিচয় লুকোতে অভিনব পন্থা নিয়েছিল নায়েক। প্রাথমিকভাবে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দিলেও, সেই টাকা ঘুরে-ফিরে জাকিরের স্ত্রী, পুত্র অথবা ভাইপোর অ্যাকাউন্টে চলে যেত। আবার ওই টাকা দিয়েই পরিবারের অন্য কারও নামে বাড়ি-ফ্ল্যাট বুক করা হতো।

মহারাষ্ট্রের প্রধান দুই শহর মুম্বই এবং পুনে ছাড়াও ওই রাজযের বিভিন্ন জায়গা থেকে জাকির নায়েকের পরিবারের অধীনে থাকা বহু ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডির পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করা ওই বিপুল সম্পত্তির মোট পরিমাণ ১৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। যেগুলির সবই ছিল জাকিরের পরিবারের সদস্যদের নামে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির মধ্যে মুম্বইয়ের ফাতিমা হাইট্স এবং আফিয়া হাইটস নামে দু’টি আবাসনের ফ্ল্যাট, ভাণ্ডুপের একটি বেনামি আবাসন প্রকল্প এবং পুনের এনগ্রাসিয়া আবাসনের ফ্ল্যাট রয়েছে।

২০১৬ সালে ঢাকার গুলশনে সন্ত্রাবাদী হামলার পিছনেও নাম জড়িয়ে যায় মুম্বইয়ের বাসিন্দা ডাঃ জাকির নায়েকের নাম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে জাকিরের উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে অনুপ্রাণীত হয়েই গুলশনে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ধারায় মামলা দায়ের করে ইডি। তার আগে এনআইএ-ও জাকিরের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে মামলা করেছিল।

এই মুহূর্তে মালয়েশিয়াতে রয়েছে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ায় অভিযুক্ত জাকির নায়েক। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী মহাথির মহম্মদ জাকিরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই কারণে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নেওয়া অলেও তা সম্ভব হয়নি। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতির বদল হয়েছে। শীঘ্রই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন আনোয়ায় ইব্রাহীম। যিনি কিছু দিন আগে দিল্লি এসে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে জাকিরকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সেই পথে ইডি-র পদক্ষেপ কার্যকরী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

---- -----