হোমের কিশোরদের ভাইফোঁটার আয়োজন জলপাইগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার

প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: ভাইফোঁটার জন্য বছর ভর প্রতীক্ষায় থাকেন জলপাইগুড়ি তিস্তা পাড়ের কোরক হোমের কিশোররা। ১৬ বছর ধরে এই সরকারি হোমের আবাসিকদের জন্য ভাইফোঁটার আয়োজন করছে জলপাইগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্পন্দন।

জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এই বছরও শুক্রবার সকালে হোমের নিজস্ব হল ঘরেই ভাইফোঁটার আসর বসবে৷ সকাল থেকেই হোমের আবাসিকেরা ব্যস্ত রং তুলি নিয়ে কার্ড বানাতে। নিজেদের হাতে আঁকা ছবির এই কার্ড বোনদের হাতে তুলে দেবেন তাঁরা। অসমের জোরহাট থেকে ছোটো বেলায় হারিয়ে গিয়েছিলেন পাপু সাহা। এই হোমে আট বছর ধরে ভাইফোঁটা নিচ্ছেন তিনি। পাপু বলে, ‘বাড়িতে দিদির হাতে ফোঁটা নেওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। এই হোমে ফোঁটা নিতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগে। সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকি কবে আসবে ভাইফোঁটার এই দিনটি।’

কানাই সাহা গুপ্ত, অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে বাংলাদেশের রাইহান হুসেন, খালেক আলি, বিপ্লব রায় সহ প্রায় ১৫০ জন আবাসিক ভাইদের কপালে ফোঁটা দেবেন হোমের এলাকার বোন ও দিদিরা। তিস্তা পাড়ের পিলখানা কলোনির আরতী দাস, পল্লবী ছেত্রী, অঙ্কিতা থাপা, রুমপা খাতুন, সম্প্রীতি দেবেরা হোমের আবাসিক ভাইদের কপালে ফোঁটা দেবেন বলে জানান।

উদ্যোক্তাদের তরফে সুকল্যান দেব বলেন, ‘এই বছরে আমাদের ভাইফোঁটার আসর ১৬ বছরে পড়ল। শহরের বিভিন্ন মানুষেরা আমাদের এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেন। পাড়ার বোনেরা ভাইদের হাতে ফোঁটার উপহার হিসেবে পেন, খাতা, মিষ্টি তুলে দেবেন। দুপুরের মেনুতে ভাত, ডাল, ভাজা, মাছ, মাংস, চাটনি ও মিষ্টি থাকবে। মোট বাজেট প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এই ভাইফোঁটার উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা সম্প্রীতির বার্তাও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি৷’

হোমের সুপার দেবব্রত দেবনাথ বলেন, ‘ভাইফোঁটার আসরকে ঘিরে এখন রীতিমত ব্যস্ত আবাসিকেরা। নিজেরাই হাতে আঁকছে রঙিন কার্ড। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠানের স্বাদ গ্রহণ করার সঙ্গেই সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে। আট জন বাংলাদেশি আবাসিক সহ প্রায় ১৫০ জন আবাসিক এই বছরের ভাইফোঁটায় অংশ নেবেন।’

----
-----