নবমীতে ‘বাণিজ্য যাত্রা’ বালুরঘাটের জমিদারদের

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: জমিদারি এখন শুধুই গল্প৷ কিন্তু অটুট ঐতিহ্য৷ রীতি মেনে এখনও নবমী পুজোর যজ্ঞ শেষে কাঠের নৌকই পাঁচ রকমের শষ্য বোঝাই করে বাণিজ্য করতে বের হন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের সাহা রায় বাড়ির গৃহকর্তা৷ যা দেখতে ভিড় জমান বালুরঘাটের তিন নম্বর মোরে’র বাসিন্দারা৷

আরও পড়ুন: নবমী’র সকালে শহরে মণ্ডপমুখি মানুষের ঢল

অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগের গল্প৷ সাহা রায় পরিবারের অন্যতম সদস্য বনমালী সাহা রায় জমিদারিত্ব থাকাকালীন নবমী পুজো শেষে শষ্য বোঝাই নৌক নিয়ে আত্রেয়ী নদী দিয়ে বানিজ্যে বেড়তেন। সেই সূত্রেই পাবনা থেকে বালুরঘাটে আসা তার৷ ১৮৪২ সালে স্থাপন করেন জমিদারিত্ব৷ দিনাজপুরে ২০ হাজার বিঘা জমি ছিল সাহা রায় জমিদারির৷ তখনই জমিদার বংশে সূচনা হয় দেবী দুর্গার আরাধনা৷

সেই শুরু৷ তারপর কালের নিয়মে জমিদারি সঙ্গে উধাও হয়েছে জৌলুস৷ কিন্তু বজায় রয়েছে ঐতিহ্য৷ বনমালী সাহা রায়ের পরম্পরা মেনে বর্তমানে পরিবারের সদস্য কালীকৃষ্ণ সাহা রায় বাণিজ্য যাত্রা করেন৷ নবমীর পুজো অঞ্জলী ও যজ্ঞ শেষে ঢাকের বোলে কাঠের নৌকই পাঁচ রকমের শষ্য বোঝাই করে দুর্গা মন্ডপ থেকে বানিজ্যের জন্য রওনা দেন তিনি৷ সঙ্গে ছিলেন পুত্রবধূ ও পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা৷ পরে সেই শষ্য বোঝাই নৌকা জমিদার বাড়ির ঠাকুর ঘরে স্থাপণ করা হয়৷

আরও পড়ুন: শবরীমালা: কেরল বনধের ডাক, জারি ১৪৪ ধারা

এই সংস্কার বংশের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করেন সাহা রায় পরিবারের সদস্যরা৷ অতীত জমিদারি রীতি এখনও ওই এলাকার মানুষের কাছ অন্যতম আকর্ষণ৷ এদিনও বাণিজ্য যাত্রা দেখতে স্থানীয়দের ভিড় ছিল নজরকারা৷

----
-----