গণপিটুনি রুখতে গো-রক্ষায় গ্রেফতার ১০০

শ্রীনগর: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোরক্ষক বাহিনীদের তাণ্ডব জারি৷ গণপিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে৷ তবে, গণপিটুনির ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরে খুব বেশি চোখে পড়েনি৷ গোরক্ষকদের তাণ্ডবও হাতে গোনা৷ কারণ, গণপিটুনির আগেই তল্লাশি চালিয়ে কমপক্ষে ১০০ জনকে গ্রেফতার করে ফেলেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ৷ গণপিটুনি রুখতে এই পথ৷ যদিও গরু রাখার দায়েই গ্রেফতার হতে হচ্ছে নীরিহ কাশ্মীরিদের৷

কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামে চাষবাসের জন্য প্রয়োজন গবাদি পশু৷ অনেক সময়ই গরুর পাল নিয়েই বেরিয়ে পড়েন স্থানীয়রা৷ তখনই তাদের আটক করে পুলিশ৷ গরুপাচারের অভিযোগে পুরে দেওয়া হয় জেলে৷ গত ১ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলে আসছে৷ ১ বছরে সবমিলিয়ে ১০০-র বেশি গ্রেফতার হয়েছে গরু পাচারের অভিযোগে৷ উধমপুর, রাজৌরির প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে তল্লাশি চলে৷ পুলিশের দাবি, বেশিরভাগ সময় গরুর পাল বাইরে পাচার হয়৷ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে চলে গরু পাচার৷ পুলিশ জানাচ্ছে, গত এক বছর ধরে পুলিশের তল্লাশি বেড়েছে৷ কারণ, উধমপুর সহ বিভিন্ন এলাকার আইন শৃঙ্খলা ভাঙা হচ্ছে৷ গোরক্ষক বাহিনীদের তাণ্ডব ঠেকাতে তল্লাশির উপর জোর দেওয়া হয়েছে৷

মুসলিম গুজ্জর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে৷ চাষবাসই এই গোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা৷ গত এক বছরে গুজ্জর গোষ্ঠী পুলিশের হিট লিস্টে৷ তল্লাশি চালানো বেশিরভাগ অঞ্চলই হিন্দু অধ্যুষিত৷ ওই সমস্ত অঞ্চলেই গরু পাচারের ঘটনা ঘটছে৷ পুলিশের বক্তব্য, নির্দেশিকা অমান্য করে গরু নিয়ে যাচ্ছে গুজ্জর সম্প্রদায়৷ গোরক্ষক গোষ্ঠীদের হাতে পড়লে গণপিটুনির মুখে পড়তে হতে এদের বলে জানাচ্ছে পুলিশ৷ গরু পাচার নিয়ে ২৩০টি মামলা পুলিশের কাছে দায়ের হয়েছে৷ প্রত্যেকটি মামলা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

- Advertisement -

জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি মুখপাত্র জানাচ্ছেন, কাশ্মীরে গো হত্যা, গরুর মাংস খাওয়া, দণ্ডনীয় অপরাধ৷ ধরা পড়লে কমপক্ষে ১০ বছরের জেল৷ কঠোর হাতেই এই আইন রক্ষা করা হবে৷ গোরক্ষকদের তাণ্ডবকেও আটকানো হচ্ছে৷ অবশ্য, গোরক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে কোনও আইন জারি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে মুখে কুলুপ পুলিশ-প্রশাসনের৷

Advertisement ---
---
-----