নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল জাপান

একাতেরিনবার্গ: জিতলে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল দু’দলের সামনেই৷ লড়াই চলে তুল্যমূল্য৷ শেষমেশ বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে জাপান-সেনেগাল ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় প্রি-কোয়ার্টারে জায়গা করে নেওয়া ঝুলে রইল দু’দেশেরই৷ বরং বলা ভালো একঝাঁক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে নকআউটের পথে কাঁটা বিছিয়ে নিল জাপানিরা৷

প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে রাশিয়া বিশ্বকাপে এযাবৎ সব থেকে বড় অঘটন ঘটিয়েছে জাপান৷ স্বাভাবিকভাবেই সেনেগালের বিরুদ্ধে নীল সামুরাইদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল এশিয়ান ফুটবলমহল৷

ইতিহাস জাপানের বিপক্ষে ছিল৷ এর আগে কোনও এশিয়ান দেশ বিশ্বকাপে পর পর দু’ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারেনি৷ সেদিক থেকে ইতিহাস গড়ার হাতছানিও ছিল তাদের সামনে৷ যদিও সেনেগালের বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াইয়ে জাপানের রোকর্ড আহামরি কিছু নয়৷ রাশিয়ায় আফ্রিকান দেশটির মহড়া নেওয়ার আগে তিনবারের সম্মুখ সমরে একবারও জয় তুলে নিতে পারেনি জাপানিরা৷ একটি ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হলেও দু’বার হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের৷

- Advertisement -

দিনের শেষে ইতিহাস গড়া হল না জাপানের৷ প্রথম এশিয়ান দেশ হিসাবে বিশ্বকাপে পর পর দু’টি ম্যাচ জিতে নকআউটে জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয় তারা৷ ম্যাচ ড্র হওয়ায় সেনেগালের বিরুদ্ধে জয়ের খাতা খোলাও বাকি থেকে যায় তাদের৷

ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় জাপানি রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় সেনেগাল৷ গোল করেন লিভারপুল তারকা সাদিও মানে৷ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেনেগালের হয়ে এটিই দ্রুততম গোল৷ ৩৪ মিনিটে নাগাতোমোর পাস থেকে গোল করে জাপানকে সমতায় ফেরান তাকাশি ইনুই৷ প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়৷

দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে জাপান৷ ৬১ মিনিটে সেনেগালের ফাঁকা জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হন ওসাকো৷ ৬৫ মিনিটে ইনুইয়ের শট ক্রস বারে লেগে প্রতিহত হয়৷

৭১ মিনিটে নিয়াংয়ের পাস থেকে গোল করে সেনেগালকে ২-১ গোলের লিড এনে দেন ১৯ বছরের ওয়াগুয়ে৷ কাগাওয়ার পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা হোন্ডা ৭৮ মিনিটে ইনুইয়ের পাস থেকে গোল করে জাপানকে পুনরায় সমতায় ফেরান৷ শেষ পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন থেকে যায় ২-২৷

ম্যাচ ড্র হওয়ায় জাপান ও সেনেগাল দু’দলেরই পয়েন্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৷ শেষ ম্যাচের ফলাফলের নিরিখে নকআউটে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে দু’দেশের সামনেই৷

Advertisement
----
-----