সুদ নয়, টাকা রাখলে ‘ফাইন’ কাটবে ব্যাংক

টোকিও:  ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে সেখান থেকে সুদ পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু এবার উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল জাপান সরকার।
এখন থেকে জাপানের ব্যাংকগুলিতে অর্থ রাখলে সেখান থেকে কাটা যাবে টাকা। অর্থাৎ যদি কোনও আমানতকারী ব্যাংকে টাকা রাখেন তাহলে অর্থ রাখার জন্য উল্টে ব্যাংকগুলিকে অর্থ দিতে হবে। যদি অর্থ জমা থাকে, তাহলে জাপানের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ০.১শতাংশ হারে অর্থ নেবে। ব্যাংকগুলো যাতে বেশি করে ঋণ দিতে বাধ্য হয় সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করার জন্যই এই পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে বলে মত দেশের অর্থনীতিবিদদের।
শুধু জাপান নয়, এই ধরনের পদক্ষেপ এর আগে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলি আগে গ্রহণ করেছে। কিন্তু জাপানে এই ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম।
জাপানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার খুবই কম। সেজন্য মানুষজন সেই অর্থ খরচ কিংবা বিনিয়োগ না করে ব্যাংকে রাখছে। সে কারণে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের উপর যদি সুদ না দিয়ে উল্টো অর্থ কেটে রাখা হয় তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেশি করে ঋণ দিতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে জনগণ ব্যাংকে অর্থ জমা রা রেখে আরও বেশি খরচ করবে এবং বিনিয়োগও বাড়বে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ রাখা। কিন্তু সে দেশে অর্থ খরচ করার প্রবণতা কমে গেছে। যার ফলে জিনিষপত্রের দামও অনেক কম। অর্থনীতিবিদেরা জানাচ্ছেন, এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য মোটেই ভালো খবর নয়। এই ঋণাত্মক সুদের হার নির্ধারণ কতটা কাজে দেবে সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।
টোকিও’র ফুজিতসু ইন্সটিটিউটের মার্টিন স্কালজ জানাচ্ছেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ঋণাত্মক সুদের হার হচ্ছে সর্বশেষ পন্থা। জাপানে যে ঋণের প্রবাহ বাড়ছে না সেজন্য শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দায়ী নয়। ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করার মতো কোন সুযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ কতটা কাজে দেবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহে মার্টিন।

Advertisement
----
-----