বারাসত: যাত্রা শিল্পীদের বাৎসরিক অনুদান ৯ থেকে বেড়ে হল ১৫ হাজার টাকা৷ শুক্রবার বারাসতে যাত্রা উৎসবের উদ্বোধনে গিয়ে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের লোক শিল্পীদের উন্নয়নে সচেষ্ট তৃণমূল সরকার৷ কখনও অনুদান, আবার কখনও বা রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রচারে কাজে লাগানো হয় এই শিল্পীদর৷ ২০১২ সাল থেকে অনুদান চালু হয় যাত্রা শিল্পীদের। ২০১২ সালে মাথাপিছু দেওয়া হতো ছ’হাজার টাকা। পরে তা বেড়ে হয় ন’হাজার টাকা। যাত্রা আকাদেমি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই অনুমোদিত যাত্রাশিল্পীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এরপর এক ধাক্কায় বছরে ছয় হাজার টাকা করে প্রত্যেক অনুদানপ্রাপ্ত শিল্পীর আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্লাবগুলিকে জোট বাঁধার বার্তা মমতার

এদির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যাত্রা শিল্প ও শিল্পীদের মানন্নোয়নের চেষ্টা করছি৷ এখনও পর্যন্ত প্রায় ছশো যাত্রা শিল্পী সরাকরি অনুদান পেয়ে থাকেন৷ এতদিন তাদের দেওয়া হত বাৎসরিক নয় হাজার টাকা৷ এবার তা আরও ড? হাডার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল৷’’ চিৎপুরের যাত্রাপাড়ার কলা কুশলীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়, ক্ষয়িষ্ণু শিল্প ফের প্রাণ ফিরে পেয়েছে সরকারিন পদক্ষেপে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা খুশি৷

আরও পড়ুন: মেয়েকে ৪০ হাজার করে মাসহারা দিতে হবে শোভনকে

রাজ্য যাত্রা সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক কনক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘সারা জীবন যাত্রার সঙ্গে যুক্ত থেকে শেষ বয়সে আর্থিক বিপন্নতা ও শারীরিক অক্ষমতায় যাঁরা কষ্টে রয়েছেন, সরকারি সাহায্যের ফলে তাঁদের কিছুটা হলেও সুরাহা হয়েছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে যাত্রাশিল্পী রুমা দাশগুপ্ত বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগই-বা কে নেয়। আমরা চাই, এই শিল্পের আরও উন্নতি হোক। তাহলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

তবে বিরোধীদের দাবি, সামনেই লোকসভা ভোট৷ তাই কখনও অধ্যাপকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো, কৃষকদের শষ্যবিমা দেওয়া, আবার কখনও যাত্রা শিল্পীদের অনুদান বৃদ্ধি সহ নানা ভোটমুখি ঘোষণা করে মানুষকে পাসে পেতে মরিয়া তৃণমূল৷ ভোট মিটে গেলেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হবে না, থাকবে কেবল ঘোষণা৷ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদজিনের ঘোষণায় আপ্লুত যাত্রী শিল্পীরা৷

--
----
--