পাঠ্যবইয়ে নেহেরুর জায়গা দখল করল গেরুয়া সাভারকার

নয়াদিল্লি : দশম শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর ছবি৷ তার বদলে নিয়ে আসা হল স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আরএসএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনায়ক সাভারকারের ছবি৷

এমনই ঘটনা ঘটেছে গোয়াতে৷ গোয়ার দশম শ্রেণীর সমাজ বিজ্ঞানের বইতে এই হেরফের ঘটানো হয়েছে৷ এই দাবি করেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বা এনএসইউআই৷

পড়ুন: শিক্ষার পরিকাঠামো বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ

- Advertisement -

এনএসইউআইয়ের গোয়া প্রধান আহরাজ মুল্লা বুধবার এই অভিযোগ করেন৷ তিনি জানান, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মনে আরএসএসের আদর্শকে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে। গোটা ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছবিকে যে অপমান বিজেপি করল, তা মানুষ ভাল ভাবে নেবে না৷ তিনি আরও জানান, জহরলাল নেহেরুর ছবি সরিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়ক সাভারকারের ছবি বসানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই৷ এটা বিজেপির জোরজবরদস্তি ক্ষমতার দম্ভ ফলানোর প্রয়াস৷

দশম শ্রেণির ইতিহাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই ‘‌ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য কনটেম্পররি ওয়ার্ল্ড ২–ডেমোক্রেটিক পলিটিক্স’‌–এ এই ছবির পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এই বইটির ৬৮ নম্বর পৃষ্ঠায় ১৯৩৫ সালের একটি পোর্ট্রেট ছিল৷ তাতে এক সাথে মহাত্মা গান্ধী ও মৌলানা আজাদের সঙ্গে জহরলাল নেহেরুর ছবি ছিল। ছবিটি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধাতে সেবাগ্রাম আশ্রমের ছবি৷ বইটির দশম সংস্করণে সেই ছবিটিই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ বইটি গোয়া এডুকেশন অথরিটি মুদ্রণ করে বলে খবর৷

মুল্লার আরও অভিযোগ কোনও দিন মহাত্মা গান্ধীর ছবিও সরিয়ে দেবে বিজেপি৷ সেখানে বসবে কোনও বিজেপি নেতার ছবি৷ তারপর প্রশ্ন তুলবে কংগ্রেস গত ষাট বছর ধরে কি করেছে৷ মুল্লা দাবি করেন বিজেপি যেন এটা নিশ্চিত করে যে তারা ইতিহাস বদলাবে না৷ কারণ ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে কংগ্রেসের ওতপ্রোত সম্পর্ক৷

আহরাজ মুল্লা বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে গোয়া মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা হলেও, অবস্থা বদলাবে বলে মনে করছেন না তিনি৷ কারণ তিনিও আরএসএসের আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি কখনই জওহরলাল নেহেরুর ছবি পুনরায় পাঠ্য বইয়ে ফিরিয়ে আনবেন না। এই ইস্যুতে জোরদার আন্দোলন চলবে রাজ্য জুড়ে, বলে জানিয়েছেন তিনি৷

Advertisement
---