স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: টিটাগড় থেকে ঝাড়খন্ড যাওয়ার জন্য রওনা দিয়ে কলকাতা স্টেশনের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন মা ও কন্যা৷ কিন্তু যাওয়ার পথে টিটাগড়ের বিটি রোডে উবেরে বসেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ও তার মা। অপহরণের আশঙ্কা করছে নিখোঁজ ওই গৃহবধুর পরিবারের আত্মীয়রা। নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম সুমন স্বর্ণকার (৩৮) এবং তাঁর একমাত্র কন্যা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তানিশা স্বর্ণকার (১৪)। তাঁদের বাড়ি ঝাড়খন্ড রাজ্যের গিরিডি জেলায়।

প্রসঙ্গত, অষ্টম শ্রেণীর ওই ছাত্রী গিরিডি কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করে। মেয়ে তানিশার স্কুলের গরমের ছুটিতে তানিশাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন সুমনদেবী। গত ১৬ মে তাঁরা টিটাগড়ে আসে। টিটাগড়ের বৌবাজার এলাকায় সুমন দেবীর বাপের বাড়ি। গত ২৪ জুন সুমনদেবী তাঁর একমাত্র মেয়ে তানিশাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ঝাড়খন্ডের গিরিডি যাবে বলে ঠিক করে৷ সেই অনুযায়ী বাপের বাড়ি টিটাগড় বৌবাজার থেকে রওনা দেয়। সুমনদেবীর ভাই সুনীল শেঠ দিদি এবং ভাগ্নি তানিশাকে গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় বিটি রোড থেকে একটি উবেরে তুলে দেয়৷ যে উবের কলকাতা রেল স্টেশন পৌঁছানোর জন্য এসেছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২৫ জুন কলকাতা রেল স্টেশন থেকে কলকাতা-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেনে তাঁদের ঝাড়খন্ডের গিরিডি পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ২৫ জুন যখন কলকাতা-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঝাড়খন্ডের গিরিডি রেল স্টেশনে পৌঁছয় তখন নিজের স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে স্টেশন থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে আসেন সুমনদেবীর স্বামী পেশায় সোনার দোকানের মালিক রাজেশ স্বর্ণকার। কিন্তু তিনি গিরিডি স্টেশনে কলকাতা-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেন ঢোকার পর দেখেন ওই ট্রেনের কোনও কামড়াতেই তার স্ত্রী ও মেয়ে নেই। তৎক্ষণাৎ রেল স্টেশনে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই ট্রেনে সুমন স্বর্ণকার এবং তানিশা স্বর্ণকার নামে কেউ ওঠেই নি। ওইদিন ট্রেনে ওই দু’জনের নামে টিকিট থাকলেও সেখানে কেউ ছিল না৷

এরপরই রাজেশবাবু গিরিডি থেকে ফোন করেন তাঁর শ্যালক সুনীল শেঠকে। সুনীলবাবু জানান, তাঁর দিদি ও ভাগ্নিকে তিনি নিজেই টিটাগড় বিটি রোড থেকে উবেরে তুলে দিয়েছিলেন৷ কলকাতা রেল স্টেশন পৌঁছানোর জন্যই ওই উবের ডাকা হয়। এরপর পথে কি হয়েছে তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। মঙ্গলবারই নিজের একমাত্র কন্যা ও স্ত্রীকে খুঁজতে ঝাড়খন্ড থেকে টিটাগড়ে শ্বশুর বাড়িতে আসেন রাজেশবাবু। মঙ্গলবার গোটা ঘটনাটি টিটাগড় থানায় জানিয়ে রাজেশ স্বর্ণকার স্ত্রী ও কন্যা নিখোঁজের এফআইআর দায়ের করেন।

তবে রাজেশবাবুর অনুমান, তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে উবের চালকই অপহরণ করেছে৷ তিনি মনে করছেন, তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে গাড়িতে বসিয়ে কোনও ভাবে চেতনানাশক কিছু ছড়িয়ে দু’জনকে সংজ্ঞাহীন করে হয়ত অপহরণ করেছে ওই চালক৷ এদিকে দিদি ও ভাগ্নিকে উবেরে তোলার সময় সেই গাড়ির শেষ চারটি নম্বর মনে রেখেছিল রাজেশবাবুর শ্যালক সুনীল শেঠ।

সেই গাড়ির চারটি নম্বর টিটাগড় থানার তদন্তকারি পুলিশ কর্মীদের জানিয়েছেন সুনীলবাবু। সেই নম্বরের সূত্র ধরেই টিটাগড় থানার পুলিশ অভিযুক্ত উবের চালকের খোঁজ শুরু করেছে। গোটা ঘটনায় হতবাক রাজেশ স্বর্ণকার। তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের কাছে রাজেশবাবু ও তাঁর শ্যালক বারবার দরবার করছেন, যদি কোনও ভাবে খোঁজ মেলে সুমনদেবী এবং তানিশার। ইতিমধ্যেই টিটাগড় থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

----
--