চিন থেকে আসছে জিও ফোন! কী বলছে রিলায়েন্স?

নয়াদিল্লি: গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল রিলায়েন্স জিও-র বিরুদ্ধে৷ মুকেশ আম্বানী স্থানীয়ভাবে জিওফোন তৈরি করছেন না৷ সব জিওফোন চিন থেকে আমদানি করা হচ্ছে৷ এমনই অভিযোগ তুলেছিল দ্য মোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (টিএমএ) নেতৃত্বে পরিচালিত ভারতীয় মোবাইল হ্যান্ডসেটের কোম্পানিগুলি৷ কিন্তু, এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করল রিলায়েন্স জিও৷

অভিযোগ উঠেছিল, আমদানি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিকল্প বানিজ্যিক পথ ব্যবহার করে ৪জি ফিচার ফোন জিওফোন আমদানি করছিল রিলায়েন্স জিও৷ টিএমএ-এর আনা যাবতীয় অভিযোগ ধূলিস্যাৎ করে রিলায়েন্স জিও-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সব হ্যান্ডসেটগুলি ভারতেই তৈরি করা হচ্ছে৷

টিএমএ-র মোবাইল অ্যাডভাইসারি কমিটির চেয়ারম্যান ভুপেশ রাসীন বলেন, ‘‘জিও ফোনগুলি ভারতে তৈরি করা হচ্ছে না৷ আমরা যা বুঝেছি সেই অনুযায়ী, সব জিওফোন চিন থেকে আমদানি করা হচ্ছে৷ টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার জিও বর্তমানে বিপুল পরিমাণের যন্ত্র ইন্দোনেশিয়া দিয়ে আমদানি করার পরিকল্পনা করছে শূন্য শতাংশ শুল্ক উপভোগ করার জন্য৷’’

- Advertisement -

তিনি জানিয়েছেন, ১০টি ‘আসিয়ান’ দেশের সঙ্গে মুক্ত বানিজ্যের চুক্তি রয়েছে ভারতের৷ এই দেশগুলির যে কোনও একটির মধ্যে দিয়ে বিনা শুল্কে আমদানি করলে তা সরকারের মেক ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া প্রকল্পের ব্যপক ক্ষতি করবে৷ এই দেশগুলি ছাড়া অন্য মার্কেট থেকে সম্পূর্ণ তৈরি মোবাইল আমদানির উপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত৷ অন্য মার্কেটগুলির মধ্যেই পড়ে চিন৷ এই অভিযোগ ও উদ্বেগ প্রকাশ করতে কেন্দ্রীয় অর্থনীতি মন্ত্রী অরুন জেটলি এবং অন্যান্য উচ্চ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও করছে টিএমএ৷

এই মাসের প্রথম দিকে জিওফোনের ঘোষণা করেন মুকেশ আম্বানি৷ ৪জি স্মার্টফোনের সাধারণ মডেলের আদলে তৈরি জিওফোনটি অন্য যে কোনও ফিচারফোনের বিনিময়ে ৫০১ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হবে৷ আগামী ২১ জুলাই থেকেই এই অফারটি চালু হয়ে যাবে৷

এ ছাড়া, জিওফোন টু এর আপগ্রেডের কথাও ঘোষণা করেন ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি৷ ২ হাজার ৯৯৯ টাকা দামের এই হ্যান্ডসেটটি চলতি বছরের ১৫ অগস্ট থেকে বাজারে পাওয়া যাবে৷ এই কোম্পানির একজন মুখপত্র বলেন, ‘‘২০১৮-র ১৫ অগস্ট থেকে ২ হাজার ৯৯৯ টাকায় জিওফোন টু পাওয়া যাবে৷ এই ফোনটি ভারতে তৈরি করা হচ্ছে৷ জিওফোনও এখন ভারতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়৷’’ এই ফোনের মাধ্যমে ২৫ মিলিয়ন জিওফোন ব্যবহারকারিকে ১০০ মিলিয়নে নিয়ে যাওয়াই রিলায়েন্স জিও লক্ষ্য৷

টিএমএ-র তরফে বলা হয়, জিওকে যদি এত কম মূল্যে একটি ফিচার ফোন বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে কার্বন, লাভা, জিভি মোবাইল এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রা ১০০ টি মোবাইলের বিক্রেতাকে “রাতারাতি অপ্রতিযোগী এবং অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দেওয়া হবে। এমনকী, এর ফলে যে সব ভারতীয় কোম্পানি ফিচার ফোন বিক্রি করে লাভ করে তাঁরা উৎপাদন এবং বিক্রির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন৷ এমনই আশঙ্কা টিএমএ-র৷

Advertisement ---
---
-----