প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কাছে ‘জেএমবি জঙ্গি ডেরা’

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের সামনে জঙ্গি ডেরা তৈরি করেছিল জেএমবি৷ এই সংগঠনটি আগেই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ৷ জামাত উল মুজাহিদিনের তিন জঙ্গি আত্মঘাতী হামলায় খতম হয়েছে৷

ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতার টার্গেট ছিল জেএমবি জঙ্গি সংগঠন৷ এমনই জানিয়ে দিলেন ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের জনসংযোগ বিভাগের কমান্ডার মুফতি মাহমুদ৷ তিনি বলেন, রুবি ভিলা নামের জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিনজন জেএববি’র সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড, তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট, ডেটনেটর ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

রুবি ভিলা থেকে কমবেশি একশ গজ দূরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়৷ জঙ্গি ডেরার কাছেই আছে সংসদ সদস্য (এম.পি) আবাসন৷ জঙ্গিরা কি একযোগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও এমপি হোস্টেলে হামলার ছক করেছিল ? নিহত জঙ্গিদের সংগ্রহে থাকা আত্মঘাতী হামলার সরঞ্জাম দেখে গোয়েন্দা পুলিশ এমনই মনে করছে৷

- Advertisement -

পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে জঙ্গি ডেরা, টার্গেট হাসিনা, সংসদ সদস্যরা ?

এর আগে ২০১৪ সালে জেএমবি পরিচালিত বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করা হয় পশ্চিমবঙ্গে৷ তৎকালীন বর্ধমান (বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান) জেলার সদর শহর লাগোয়া খাগড়াগড়ে ঘাঁটি তৈরি করে বিস্ফোরক বানাচ্ছিল জেএমবি৷ একটি বিস্ফোরণে পর উঠে এসেছিল ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুনের পরিকল্পনা৷ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মূল অপরাধী তথা জেএমবি-র মিলিটারি শাখার প্রধান হাতকাটা নাসিরুল্লা ধরা পড়েছে রাজশাহী থেকে৷ ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তালিকায় নাসিরুল্লার মাথার দাম ১০ লক্ষ রুপি৷

এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিকটেই জেএমবি ডেরা তৈরি হওয়ায় চিন্তা বাড়ল বাংলাদেশ সরকারের৷ রুবি ভিলা ছয় তলা৷ এই বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাটে মেস ছিল। এসব মেসে ২২ জন থাকত। এর মধ্যে পাঁচ তলার ফ্ল্যাটে থাকত তিন জঙ্গি৷ বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় ব়্যাব৷ রাতভর ব়্যাব বনাম জঙ্গিদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল এলাকা৷ শুক্রবার সকালে পর পর বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি জঙ্গিরা৷ এরপর সেই ভবনে ঢুকে পড়ে রক্ষী বাহিনী৷ উদ্ধার করা হয় তিন জঙ্গির দেহ৷

পড়ুন: এয়ারফোর্সের প্রাক্তন অফিসারের বাড়িতেই বার বার জঙ্গি ডেরা

রুবি ভিলাতে আগেও অভিযান চালানো হয়৷ দুই দফা অভিযানে অন্তত ১২ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ তারপরেও এই বাড়িতে কী করে মেস চলত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পাশে জঙ্গি ডেরায় বিস্ফোরণের জেরে আলোড়িত বাংলাদেশ৷

Advertisement
----
-----