সেই জঙ্গি ‘জামাই’ ফেরত চাইবে বাংলাদেশ সরকার

বিশেষ প্রতিবেদন: চমকে গিয়েছেন ময়মনসিংহের বাসিন্দারা৷ তাঁদের মনে পড়ছে সেই সিনেমার কায়দায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনা৷ দু বছর আগে (২০১৪) প্রকাশ্যে পুলিশের ভ্যানে হামলা চালিয়ে, খুন করে বন্দি জঙ্গিদের ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ‘জামাই’৷  সে এখন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ হেফাজতে৷ এমন জঙ্গি জামাইকে ফেরত পেতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার৷ রবিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে গোয়েন্দা প্রধান বিশাল গর্গ জানান, ৬ জেএমবি(জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) শীর্ষ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এরা প্রত্যেকেই ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত৷  ধৃতদের একজন আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে ইনাম৷ সে জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান৷  তাকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷পশ্চিমবঙ্গে ধৃত ফারুক ওপার বাংলায় মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি ‘জামাই’ হিসেবে পরিচিত৷

ফারুক ওরফে জামাই
ফারুক ওরফে জামাই

মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি জামাই:  বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে জামাই ফারুক হল ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের ভ্যান থেকে আসামি ছিনতাইয়ের হোতা৷ নয়াদিল্লি-ঢাকা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে৷ সেই চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকারের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড ‘জামাই’-কে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ সরকার৷ ২০১৪ সালে বর্ধমান শহর লাগোয়া খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়৷ গোয়েন্দা তথ্যে প্রমাণ, জেএমবি জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সরিয়ে’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল৷ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের বছরেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে ইনাম ওরফে ‘জামাই’৷পশ্চিমবঙ্গে চলে আসার আগেই সে ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে বন্দি জঙ্গিদের ছিনতাই করে৷ যাদের অন্যতম জহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান৷ খাগড়াগড় কাণ্ডে এই বোমারু মিজান এনআইএ তালিকায় অন্যতম আসামী৷

ফাইল
ফাইল

সিনেমার মতো বন্দি ছিনতাই: ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি৷ আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তিন জেএমবি জঙ্গিকে৷ এদের নাম সালাউদ্দিন সালেহি, জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান,রাকিবুল হাসান৷ এরা ২০০২ সালে ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে (ছায়াবাণী, অজন্তা, পূরবী ও অলকা ) পরপর বিস্ফোরণের মামলায় জড়িত৷ সেই নাশকতায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়৷ বন্দিদের ছাড়াতে সরাসরি পুলিশের ভ্যানে হামলা চালায় জেএমবি৷ এর পরিকল্পনা করে জামাই৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বলেছেন,  জঙ্গিরা প্রথমে ভ্যানটিকে লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি ছোঁড়ে। তাতে নিহত হয় এক পুলিশ কনস্টেবল৷ এরপরই তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় বাকিরা৷ হামলার দিনই ফের ধরা পড়ে জামাইয়ের সহযোগী রাকিবুল৷ আর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসে জঙ্গি জামাই৷ পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে থাকার সময় বোমারু মিজানের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে বিশাল নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল এই জামাই৷ তারই পরিকল্পনায় বর্ধমানের শিমুলিয়া মাদ্রাসায় বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী মহিলা জঙ্গিদের ট্রেনিং দেওয়া হত৷ জামাতের এই মহিলা বাহিনী রেডরোজ  বা রক্তগোলাপ নামে পরিচিত৷ পশ্চিমবঙ্গেও তাদের জাল ছড়িয়েছে৷

আরও পড়ুন:রক্ত গোলাপের নাশকতায় এপারেও কি রক্ত ঝরবে ?

----
-----