ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের ‘জব ফেয়ার’ হবে না ৷ তবে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেস এবং সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু বিষয়টিকে একটি ‘নাটক’হিসেবেই দেখছে৷ ‘জব ফেয়ার’নামের নাটক শেষ পর্যন্ত বৃহৎ মঞ্চে মঞ্চস্থ হতে পারল না – মতামত কংগ্রেসের৷ অন্যদিকে সিটুর মতে, এটি একটি কমেডি৷ শেষ পর্যন্ত তা হতে পারেনি৷

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নভেম্বরের ২৭ তারিখ জব ফেয়ার বাতিল করা হয়েছে৷ কারিগরি শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে রাজ্যের পলিটেকনিক কলেজগুলিকে বিষয়টি রবিবারই স্পষ্ট করা হয়েছে৷ সরকারি সূত্রে যা খবর, কারিগরি শিক্ষা দফতরের প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষিত হয়েও চাকরির প্রাথমিক নিয়োগপত্র পায়নি ছাত্রছাত্রীরা৷ কাজ জোটে নি৷ মেলাও তাই বন্ধ৷

এদিকে, সোমবার জামবনিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘সারা ভারতবর্ষে বেকারত্ব বাড়ছে৷ আমাদের এখানে বিকারত্ব কমছে৷ আরও কমবে৷ সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বেতন ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে৷ সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স ৩৩ থেকে ৪০ করা হয়েছে৷ তফশীলী জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রে ওই বয়স ৪৩ বছর৷ সরকারি চাকরির অবসরকালীন বয়স ৬০ বছর৷ সবাই স্বাস্থ্যসাথী পাচ্ছে৷’’

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিটুর সর্বভারতীয় সহ সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী মন্তব্য, ‘‘কী হিসেবে বলছেন উনি তা নিজেই জানেন৷ বাংলায় বেকারত্ব বাড়ছে৷ শিক্ষিতরা কাজ না পেয়ে রাজ্যের বাইরে যাচ্ছে৷ আবার কিছু ক্ষেত্রে ৬০০০ টাকা বেতন দিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে৷ ওই কাজের কোনও নিরাপত্তা নেই৷ কর্মীরা পালাচ্ছে৷ রাজ্য সরকারের জব ফেয়ার একটা কমেডি৷’’

অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের বক্তব্য, এ নাটক ছাড়া আর কী৷ সংখ্যার জাগলারি করে ওরা দেখাচ্ছে রাজ্যে নাকি প্রচুর চাকরি৷ কলেজ-বিশ্বিদ্যালয়কে জানাচ্ছে প্রচুর চাকরি আছে৷ এদিকে জব ফেয়ারের নামে নাটক মঞ্চস্থ হল না৷ যদি মুখ্যমন্ত্রী অত চাকরি দিয়ে থাকেন, তবে তবে ভোটের সময় এত ভয় কেন?’’

----
--