জল্পনা বাড়িয়ে শনির বারবেলায় সাংবাদিক বৈঠকে বুয়া-বাবুয়া

লখনউ: বুয়া-বাবুয়া জোটের জোর জল্পনা৷ রাজধানীর বুকে একপ্রস্থ কথাও হয়ে গিয়েছে একদা প্রতিপক্ষ সপা-বসপা নেতৃত্বের৷ এবার নজরে মায়াবতী ও অখিলেশ সিং যাদবের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক৷ শনিবার দুপুরে উত্তরপ্রদেশের লখনউ-তে হবে এই বৈঠক৷ সেখান থেকেই এই দুই নেতৃত্ব আসন্ন লোকসভায় জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: মোদীকে হিটলার বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতা

দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে তৎপর কংগ্রেস৷ পাশে রয়েছে তৃণমূল, টিডিপি, এনসিপি, আপ সহ আরও বেশ কয়েকটি দল৷ অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপির থেকে সমদূরত্বের জোট গঠনের চেষ্টায় চন্দ্র শেখর রাও এর টিআরএস, বিজেডি৷ জল মাপছে বুয়া-বাবুয়া৷ এই পরিস্থিতিতে তাই হাতের ভরসায় না থেকে নিজেরাই জোট গঠনের চেষ্টায় এসপি-বিএসপি৷ কংগ্রেস সঙ্গে থাকলে রাজ্যের নিম্নবর্গের ভোট খোয়াতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের৷ ফলে আপাতত কংগ্রেসকে এড়িয়েই একসঙ্গে লড়ে যোগীরাজ্য থেকে পদ্মফুল উপড়োতে মরিয়া মায়া-অখিলেশ৷

২০১৪এর লোকসভায় ৮০ আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে মোদী ম্যাজিকে কাদায় পড়েছিল হাতি৷ আটকে গিয়েছিল সাইকেলও৷ সমাজবাদী পার্টি ৫টি আসন জিতলেও শূন্য হাতেই থাকতে হয় বিএসপিকে৷ পরে বিধানসভা ভোটেও আলাদা লড়ে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে সাফল্য আসেনি মায়া বা অখিলেশের৷ তাই এবার জোট গঠনের প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবে এর সূত্রপাত ফুলপুর ও গোরক্ষপুর লোকসভা আসনের উপনির্বাচনে জোট গড়ে সাফল্য হাত ধরে৷

 

পাঁচ বছরে মোদী ক্যারিশ্মা অনেকটাই ফিকে৷ অঙ্কের হিসাবে বুয়া-বাবুয়া জোট গড়লে অস্বস্তি বাড়বে গেরুয়া শিবিরের৷ তাই আপাতত উত্তরপ্রদেশে এই জোট ভাঙার চেষ্টায় বিজেপি৷ রাজ্যসভায় সংরক্ষণ বিলে সমর্থন করে মায়াবতী৷ অনেকেই মনে করেছিল হাত ছেড়ে এই সমর্থনের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতির পরিস্থিতি বুধে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি৷ পালটা মত হিসাবে উঠে আসে, আসলে সংরক্ষণ বিলে সমর্থন করে নিজের রাজ্যের উচ্চবর্ণের মানুষদের তুষ্ট করতে ছেয়েছেন এই দলিত নেত্রী৷ এরপরই রাজ্যের বুকে এসপির সঙ্গে তাঁর জোটের কথা ঘোষণা করবেন তিনি৷

আরও পড়ুন: মিথ্যে অভিযোগেই পদ খোয়াতে হয়েছে: অলোক ভার্মা

আপাতত হাতের দিকে না ঘেঁসলেও পরে অবশ্য তাদের সমর্থন করতেই পারে মায়া-অখিলেশ৷ জানা গিয়েছে, ভোটের আগে নয়৷ প্রয়োজনে ভোটের পরে কংগ্রেস সরকার গড়ার পরিস্থিতিতে পৌঁছলে তাকে সমর্থন করা হবে৷ উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের কথা৷ সোনিয়ার রায়বেরেলি ও রাহুলের আমেঠিতে প্রার্থী দেবে না এসপি বা বিএসপি৷ মহাজোটের ভবিষ্যত স্পষ্ট নয়৷ তবে আপাতত নজরে উত্তরপ্রদেশের বিরোধী জোট৷ শনিবারের বারবেলার সাংবাদিক বৈঠকের ডাক ঘিরেই বাড়ছে নানা জল্পনা৷

----