রাজনৈতিক সংঘর্ষ: তরুণ সাংবাদিককে কুপিয়ে খুন

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা : গৌরী লঙ্কেশের হত্যার ঘটনা এখনও থিতিয়ে যায়নি৷ তারই মধ্যে আবার আর এক সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর সামনে এল৷ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে খুন হলেন সাংবাদিক৷ বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ত্রিপুরায়৷ ইন্ডিজেনিয়াস পিপলস ফ্রেন্ট অফ ত্রিপুরা (IPFT)-র একটি রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলনের খবর আনতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক শান্তনু ভৌমিক৷ একটি সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিক তিনি৷

আরও পড়ুন-শুধু গৌরী লঙ্কেশ নন, এর আগেও খুন হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক

পুলিশ সুপার অভিজিৎ সপ্তর্ষি জানিয়েছেন, পিছন থেকে শান্তুনু উপর হামলা করা হয়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে আগরতলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে জিবি হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দ্রুত তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের একটি টিম তাকে বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন কিন্তু কিছুই করা গেল না।

- Advertisement -

আরও পড়ুন-সাংবাদিক গৌরি খুনের তথ্য দিতে পারলেই মিলবে নগদ ১০ লক্ষ

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শান্তনু ভৌমিকের সর্বাঙ্গে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তার মাথায় ও ঘারে কমপক্ষে ১৮টি দার কোপ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ত্রিপুরার উপজাতিদের ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের দা দিয়ে তাঁকে কোপানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের জেরেই তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি৷

আরও পড়ুন-নিজের বাড়িতে খুন হলেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ

সাংবাদিক মৃত্যুর পর দোষীদের গ্রেফতারের দাবি উঠেছে মানিক সরকারের রাজ্যে৷ সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কবলিত আগরতলার মান্দাই থেকে আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে জিবি হাসপাতালে। এখনও সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন-সাংবাদিক পেটানোর কথা তুলতেই মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে পরে আহত হয়েছেন প্রচুর সংখ্যক বন কর্মী, আরক্ষা কর্মী। এদের সংখ্যা ঠিক কত তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেনা কেউই।এই মাত্র ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস’র ২ জওয়ানকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অবস্থা সঙ্কটজনক। এছাড়াও আহত প্রচুর সাধারণ জনগণকেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম: ১৭৮০ থেকে ২০১৬

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মানদাই এলাকার উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এক সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনা স্থলে যায়। এই সময় সিপিআইএম এবং এইপিএফটি সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের জন্য নিজেদের তৈরি করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই ছবি তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হন চিত্র সাংবাদিক শান্তনু ভৌমিক। তাকে একদল যুবক টেনে হিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরা আইপিএফটি’র সমর্থক বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রিপুরার উপজাতিদের ব্যবহৃত দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন-রাজ্য জুড়ে সাংবাদিক পেটাচ্ছে ভাইরা: কলকাতায় দিদির লোকদেখানো মিছিল

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছে প্রথমে কোন খবর ছিল না। পরবর্তী সময় ঘটনা স্থলে থাকা সাংবাদিকদের কাছ থকেই পুলিশ খবর পায়। তাদের কাছে খবর আসে সাংবাদিক দের উপর আক্রমণ হয়েছে। পরবর্তী সময় পুলিশ আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকেও ভীষণ বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পরে অনেক অনেক চেষ্টা করে পুলিশের গারিতে করে আহত সাংবাদিককে স্থানীয় হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা সঙ্কট জনক হওয়ায় তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ত্রিপুরার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ভানুলাল সাহা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন৷ এলাকায় ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে৷ জায়গাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ৷ ইন্ডিজিনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (IPFT)-র সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন সিপিআই-এমের শাখা গণ মুক্তি পরিষদ (GMP)-এর কয়েকশো সমর্থক৷ আগরতলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে খোয়াই জেলার চানখোলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে৷ খোয়াইয়ের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র দেববর্মা জানিয়েছেন, পরিষদের সমর্থকরা আগরতলা যাওয়ার জন্য খোয়াই শহরে জড়ো হয়েছিল৷ তখনই সংঘর্ষ হয়৷ ইন্ডিজিনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরার সমর্থকরা গণ মুক্তি পরিষদের সমর্থকদের উপর লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে৷ ঘটনায় অন্তত ১১৮ জন আহত হন৷ তাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ ১৫টি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

Advertisement
---