স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এখনও ক্ষমতায় নেই দল। ক্ষমতা পাওয়ার আশা থাকলেও তা পূরণ হতে এখনও অনেক দেরি আছে। এরই মাঝে দলের মধ্যেকার কোন্দলেই জেরবার হয়ে রয়েছে বিজেপি বঙ্গ ব্রিগেড। রাজ্য স্তর থেকে জেলা সর্বত্রই রয়েছে নেতাদের কোন্দল। বিভিন্ন সময়ে তা প্রকাশ্যেও চলে এসেছে।

এই কোন্দলের ক্ষত মেরামত করতে বিশেষ টোটকা দিলেন বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, “যে সয় সে রয়।” অর্থাৎ যাবতীয় প্রতিকূলতা সহ্য করে টিকে থাকতে হব তাহলেই আসবে প্রত্যাশিত সুদিন।

মঙ্গলবার কলকাতার মৌলালি যুব কেন্দ্রে এক দলীয় সভায় হাজির ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কর্মীসভার আলোচ্য বিষয় ছিল রাজ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রথযাত্রা। কিন্তু সেই সভাতেই দলীয় কোন্দল উঠে এল জয়ের মুখে। এই কোন্দল মেটানোর জন্য কর্মীদের উপদেশ দিলেন দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

বিজেপিতে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সংখ্যা কম নেই। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েও তা দেখা গিয়েছিল। অনেকে এমনও দাবি করেন যে ২০১৬ সালে এই কোন্দলের কারণেই দলের বিধায়ক সংখ্যা দুই অংক ছুঁতে পারেনি। বিষয়টি বেশ ভাল উপলব্ধি করতে পেরেছেন নিত্যদিন রাজ্যের জেলায় জেলায় ঘুরে সভা করে বেড়ানো জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “বিভিন্ন জেলায় অনেক নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। অনেকেই নতুন নেতাদের দাপট পছন্দ করেন না।”

সেই সকল বিক্ষুব্ধ নেতাদের চুপচাপ ‘সহ্য’ করে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জয়। কারণ সকলের উপরেই শীর্ষ নেতৃত্ব নজর রাখছে। সকলকেই উপযুক্ত সম্মান দল দেবে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই বিষয়ে নিজেকেই উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন জয়। তাঁর কথায়, “আমার পরে দলে যোগ দিয়ে অনেকেই আমার আগে বড় পদ পেয়ে গিয়েছিল। আমি কেবলমাত্র রাজ্য কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হয়েই ছিলাম।” অনেক সময়ে দলের বিভিন্ন সভায় অনেক গঞ্জনাও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

পুরুলিয়ায় অমিত শাহের সভামঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও নাকি জয়কে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে দুঃখে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও নাকি ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মায়ের শেখান নীতি মেনে দাঁত কামড়ে টিকে ছিলেন। তাঁর মতে, “আমার দেবীতুল্য মা বলেন ‘যে সয় সেই রয়’। সেই কথা মেনেই কোনও বড় সিদ্ধান্ত নিইনি। আজ আমি রাজ্য কমিটির একজন সাধারণ সদস্য থেকে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।”

এই সবকিছুই দলের প্রতি আনুগত্য রেখে কাজ করে যাওয়ার ফল বলে দাবি করেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে তাঁর ক্রিয়াকলাপের উপরে সর্বদা নজর ছিল মোদী-শাহের দুই জোড়া চোখের। যা দলের সব নেতাকর্মীদের উপরেই রয়েছে। নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

----
--